বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক কার্বারিসহ ২ জুম্ম মারধর এবং ৫ দোকান তল্লাশির শিকার

0
776
ছবি : প্রতিকী

হিল ভয়েস, ১৯ মে ২০২১, রাঙ্গামাটি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বিলাইছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে এক কার্বারিসহ দুই নিরীহ জুম্ম মারধর এবং পাঁচটি দোকান ব্যাপক তল্লাশির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ (১৯ মে ২০২১) সকালের দিকে বিলাইছড়ি উপজেলা সদরের দীঘলছড়ি সেনা জোনের অপরাজেয় ৬ এর সেনাবাহিনীর একটি দল এই মারধর ও তল্লাশির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমানিক ৯:০০ টার দিকে জনৈক মেজরের নেতৃত্বে ৪০ জনের একটি সেনাদল টহল অভিযানে গিয়ে কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাঙালকাটা চৌমুহনী এলাকায় অবস্থিত জুম্মদের ৫টি মুদির দোকানে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। দোকানে কোনো কিছু না পেলেও সেনা সদস্যরা দোকানদারদের হয়রানি করে।

তল্লাশি ও হয়রানির শিকার দোকানের মালিকরা হলেন- (১) চদোগী চাকমা (৭৫), স্বামী-মৃত আনন্দ চাকমা, গ্রাম-পরিহলা মোন; (২) রোমিতা চাকমা (২৪), স্বামী-মৃত সুনীল কান্তি চাকমা, গ্রাম-আমতলা; (৩) সন্তু চাকমা (৩১), পীং-মৃত লাল্যে চাকমা, গ্রাম-বাঙালকাটা; (৪) রুনু চাকমা(৩০), পীং-মৃত কমলা রঞ্জন চাকমা, গ্রাম-হাজাছড়া ও (৫) তপন চাকমা (৫০), পীং-অজ্ঞাত, গ্রাম-পরিহলা মোন।

এরপর সেনা সদস্যরা পরিহলা মোন এলাকার নবনিযুক্ত কার্বারি অরবিন্দু চাকমা (২৭), পিতা-পান্নালাল চাকমা’কে আচমকা নিজ বাড়ি থেকে বের করে এনে উঠোনে রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর শুরু করে। সেনাবাহিনীর এহেন উপর্যুপরি মারধরের একপর্যায়ে অরবিন্দু চাকমা’র মা পারো চাকমা এগিয়ে এসে সেনাসদস্যদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও সেনা সদস্যরা আবারও অমানবিকভাবে রশি দিয়ে বেঁধে অরবিন্দু চাকমা’কে মারধর করে।

এলাকায় ‘শান্তিবাহিনী’ অবস্থান করছে, অথচ কার্বারি অরবিন্দু চাকমা সেনাবাহিনীকে জানায়নি, সেকারণে তাকে মারধর করা হচ্ছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর মারধরের কারণে কার্বারি অরবিন্দু চাকমা শারীরিকভাবে জখম হয় বলেও জানা গেছে।

অরবিন্দু চাকমার বাড়ি ছেড়ে আসার সময় সেনা সদস্যরা পথে নরেশ চাকমা (২৮), পিতা-মানিক কুমার চাকমা নামে এক নিরীহ গ্রামবাসীকে পেলে তাকেও ব্যাপক মারধর করে সেনা সদস্যরা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেনা সদস্যরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে একটি দল পরীহলা মোনে এবং অপর দলটি অরবিন্দু চাকমার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর মারধরে জখম অরবিন্দু চাকমাকে বিলাইছড়ি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে নরেশ চাকমাকে তার বাড়িতে সেবা ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এইসব গ্রামসমূহের পুরুষরা সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও আটকের আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।