বান্দরবানে সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ৩ জুম্মকে গ্রেফতার

0
900
ছবিঃ বা থেকে উক্যমং মারমা, মংপ্রু মারমা, নুংপ্রু মারমা।

হিল ভয়েস, ১৯ মে ২০২২, বান্দরবান: বান্দরবান শহরের বান্দরবান বাজার এলাকার ৪নং গলির বিপরীতে আবাসিক হোটেল ‘হাবিব বোর্ডিং’ হতে বান্দরবান সেনা জোনের ক্যাপ্টেন সাজেদের নেতৃত্বে ৫ইবি’র একদল সেনা কর্তৃক তিনজন নিরীহ জুম্মকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি গতকাল বুধবার (১৮ মে) ঘটেছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- রুমা উপজেলার গ্যালেঙ্গা পুনর্বাসন পাড়ার মংচ কার্বারীর ছেলে আথুইমং মারমা (২২), গালেঙ্গার থানজুই পাড়ার সাহ্লানিও মারমার ছেলে উক্য মং মারমা ওরফে ক্যথোয়াই (২০) এবং গ্যালেঙ্গা পুনর্বাসন পাড়ার দুংচিঅং মারমার ছেলে নুমং প্রু মার্মা (২১)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, বিগত সাংগ্রাই উৎসব এর আগে আথুইমং মারমা ও ক্যথোয়াই মারমাসহ মোট চারজন মারমা যুবক মদ্যপান করা অবস্থায় গালেঙ্গ্যার সাঙ্গু নদের সেপ্রু চরে এক বাঙালি ব্যবসায়ীর সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই মারমা যুবকরা উক্ত বাঙালি ব্যবসায়ীকে মারধর করে। পরে উক্ত বাঙালি ব্যবসায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং বিষয়টি সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করে।

সূত্র আরো জানায় যে, কয়েকদিন আগে আথুইমং ও ক্যথোয়াই তামাক বিক্রির টাকা নিতে বান্দরবান সদরে যান এবং বান্দরবান শহরে হাবিব হোটেলে উঠেন। তামাক কোম্পানির সাথে লেনদেন শেষ করার পর বুধবার (১৮ মে) টাকা নিয়ে রুমার গালেঙ্গ্যাতে চলে যাবার প্রস্তুতি নিয়েছিল। সেই সময় নুমংপ্রু মারমাও হাবিব হোটেলে উপস্থিত হন।

সূত্রে আরো জানা যায় যে, নুমংপ্রু মারমা ১৫ দিনে বান্দরবানে এসে বান্দরবানের স্বর্ণ জাদী এলাকায় একটি বাড়িতে থেকে ধান কাটার কাজে সহযোগিতা করেছিলেন। স্বর্ণ জাদী এলাকার জনৈক মেয়ের সাথে নুমংপ্রু-এর বিয়ে ঠিক হয়। তাই হবু বৌ-এর বাড়িতে সহযোগিতা করতে গিয়েছিলেন নুমংপ্রু। সহযোগিতামূলক কাজ শেষ করে নিজ বাড়ি গালেঙ্গ্যায় ফিরে যাওয়ার জন্য তার পাড়ার প্রতিবেশিদের কাছে গিয়ে হোটেল হাবিব বোর্ডিংয়ে যান নুমংপ্রু।

সেই সময় ক্যাপ্টেন সাজেদের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী হাবিব বোর্ডিং থেকে আথুইমং মারমা, ক্যথোয়াই মারমা ও নুমং প্রু মারমাকে গ্রেফতার করে এবং বিশেষ অভিযানে হাবিব গেস্ট হাউস এলাকায় চাঁদা আদায়ের সময় তিনজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে বলে সেনাবাহিনী মদদপুষ্ট অনলাইন নিউজপোর্টালের মাধ্যমে প্রচার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, উল্লেখিত তিনজন যুবক নিরীহ ব্যক্তি। তারা কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত নন। জনৈক বাঙালি ব্যবসায়ীর সাথে মারামারির তুচ্ছ ঘটনার জেরে সেনাবাহিনী অনর্থকভাবে নিরীহ তিনজন জুম্ম যুবককে গ্রেফতার করেছে। এতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের তীব্র জুম্ম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রকাশ পাওয়া যায়।

উক্ত ব্যক্তি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীর তৎপরতা দেখিয়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে জায়েজ করা, সন্ত্রাসী গ্রেফতার দেখিয়ে প্রমোশন লাভ করা, সর্বোপরি পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করার হীনউদ্দেশ্যেই সেনাবাহিনী এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রেফতার বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।