বান্দরবানে ইউএনও’র বিরুদ্ধে এক পাহাড়ী পর্যটক গাইডকে মারধরের অভিযোগ

0
541

হিল ভয়েস, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, বান্দরবান: বান্দবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান এলাহি অনুপমের বিরুদ্ধে এক পাহাড়ী পর্যটক গাইডকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত পর্যটক গাইডের নাম উঅংসিং মারমা। তিনি ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডে আলেচু পাড়ার বাসিন্দা মুইংসাচিং মারমার ছেলে।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১১টা দিকে নির্বাহী কর্মকর্তার নিজ কার্যালয়ে উক্ত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্যুরিস্ট গাইড উঅংসিং মারমাকে উদ্ধার করে রোয়াংছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার সহকর্মীরা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন বলেও জানা যায়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী অমরজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ট্যুরিস্টরা পর্যটন এলাকায় আসলে দুর্ভোগে না পরতে নিয়ম অনুযায়ী দেবতাকুমের পরিচালনা কমিটি সিরিয়াল মেইন্টেন করে রাখে। পর্যটক গাইডের সিরিয়াল অনুযায়ী পর্যটকদের নিয়ে ঘুরতে হয়। আমরা নিয়ম মেনে চলি। গতকাল জেলা প্রশাসকের গেস্ট হিসেবে যাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে পর্যটক গাইড উঅংসিং মারমা’র সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিল, এর জের ধরে মারধর করেন ইউএনও।

এব্যাপারে ট্যুরিস্ট গাইড কমিটির সভাপতি পলাশ তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক চিনু মারমা বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা গাইড উঅংসিং মারমাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে কিল ঘুষি মেরে আহত করেছেন। মারধরের পর আহত ব্যাক্তিকে উপস্থিত থাকা গাইড সদস্যরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই ব্যাপারে আহত গাইড উঅংসিং মারমা ফোনে জানান, গত শনিবার দেবতাকুমের পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার সময় সিরিয়াল মেইন্টেন করার বিষয়কে নিয়ে জেলা প্রশাসকের গেস্টদের নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন। পরে এক পর্যায়ে আমি কিছু বুঝার আগেই কিল ও ঘুষি মেরে ইউএনও আমাকে আহত করেন।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান এলাহিকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ট্যুরিস্ট গাইডরা।

উল্লেখ্য যে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সমতল জেলাগুলো থেকে যাওয়া পর্যটকদের’কে পর্যটনের স্থানে আনা নেওয়া করার জন্য স্থানীয় কিছু যুবক গাইড হিসাবে কাজ করেন। এই গাইডরাই পর্যটকদেরকে তাদের কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। পর্যটনের স্থানগুলো দূরবর্তী ও দুর্গম হওয়ায় এই ধরণের গাইড’কে সঙ্গে নিয়েই পর্যটনে যায় সমতলের পর্যটকরা। বিনিময়ে গাইডদেরকে নির্দিষ্ট হারে সম্মানীও দিতে হয় পর্যটকদের।