পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার বিষয়ে খোঁজ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার

0
1722

হিল ভয়েস, ১৬ আগষ্ট ২০২২, ঢাকা: বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার মিশেল বাচেলেট পৃথক পৃথকভাবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল বাচেলেট গত ১৪ আগষ্ট থেকে চারদিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজন মন্ত্রী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাত করেন ও দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, বৈঠকের সময় মন্ত্রীদের কাছ থেকে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রধান খোঁজখবর নিয়েছেন। অপরদিকে গতকাল সোমবার (১৫ আগষ্ট) ঢাকাস্থ একটি হোটেলে সুশাীল সমাজের প্রতিনিধিদল কর্তৃক মিশেল ব্যাচেলেটের সাথে সাক্ষাতের সময় অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে তুলে ধরা হয় বলে জানা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের সাথে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান যে, জোরপূর্বক নিখোঁজ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংখ্যালঘু, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রীবৃন্দের কাছ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান কী বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন তা সবিশেষ জানা যায়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, “পার্বত্য চট্টগ্রাম একটা অশান্তির রাজ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করেছেন। শান্তি চুক্তির বেশিরভাগ বিধান বাস্তবায়ন করেছে। ইত্যাদি বিষয়সমূহ তিনি মিশেল ব্যাচেলেটকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আদিবাসী মানবাধিকার কর্মী অভিমত ব্যক্ত করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি সেভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারকে ব্রিফ করে থাকেন, তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের অব্যাহত গড়িমসি এবং চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উদ্বেগজনক মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারের অফিসের কাছে ভালো জানা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

মানবাধিকার কমিশনারের সাথে সাক্ষাতকালে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। মিশেল ব্যাচেলেটের সাথে আলোচনার সময় নারী এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক বলে জানান মানবাধিকার কর্মীরা।

মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিনিধিদলটি বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রধানকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বলপূর্বক গুমের ঘটনাবলী তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা সরকারকে বোঝাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগষ্ট ২০২২ ছয় জুম্ম অধিকার সংগঠন কর্তৃক জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান করেছে।

গত ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর সাত সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রধানের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার মিশেল ব্যাচেলেট কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করছেন। আগামীকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে ব্যাচেলেটের। চারদিনের সফর শেষ করে ঢাকা ত্যাগ করার আগে ১৮ আগষ্ট বিকেলে তিনি তাঁর সফরের উপর একটি বিবৃতি দেবেন বলে জানা গেছে।