জাতিসংঘ পার্মানেন্ট ফোরামের ছয়টি এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ের (আইটেম-৪) উপর জেএসএস প্রতিনিধির বক্তব্য

0
404

হিল ভয়েস, ২০ এপ্রিল ২০২৪, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামরিকায়ন ও অধিকার কর্মীদের ক্রিমিনালাইজ বন্ধ করে অচিরেই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জনগণের মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসারের আহ্বান জানিয়েছে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি মনোজিত চাকমা।

গতকাল (১৯ এপ্রিল, শুক্রবার) “আইটেম ৪: আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের ঘোষণা এবং টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা প্রেক্ষাপটে স্থায়ী ফোরামের ছয়টি এখতিয়ারভুক্ত ক্ষেত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার) নিয়ে আলোচনা”-এর উপর আলোচনা করতে শ্রী চাকমা একথা বলেন।

মনোজিত চাকমা আরো বলেন যে, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন তো করছেই না, অধিকন্তু চুক্তি লঙ্ঘন করে ব্যাপক সামরিকায়ন করে চলেছে। সরকার চার শতাধিক ক্যাম্প স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বৃহত্তর সেনাছাউনিতে রূপান্তর করেছে।

জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে আদিবাসী জুম্ম জনগণের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে নস্যাত করার জন্য সেনাবাহিনী একের পর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সৃষ্টি করে চলেছে এবং তাদেরকে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সন্ত্রাসী কাজে লেলিয়ে দিয়ে চলেছে। এটা সামরিক বাহিনী তথা সরকারের “ভাগ করো শাসন করো” নীতি।

যেমন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বান্দরবান জেলায় তাদের লালিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপকে লেলিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী ৮ জন বম গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। অন্যদিকে এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জনসংহতি সমিতির সদস্য ও সমর্থকসহ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত ব্যক্তি ও সংগঠনকে জড়িত করে ক্রিমিনালাইজ করে চলেছে।

রাত-বিরাতে আদিবাসী জুম্মদের গ্রামে সেনা অভিযান, নিরপরাধ ব্যক্তিদের ধরপাকড় ও মারধর, মিথ্যা মামলা জড়িত করে জেলে প্রেরণ, ঘরবাড়ি তল্লাসী, ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা, বেআইনীভাবে ক্যাম্পে আটক ও নির্যাতন ইত্যাদি আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী তথা সরকার মুসলিম বাঙালি সেটেলার লেলিয়ে দিয়ে জুম্মদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল, পর্যটন ও নানা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ, নারীর উপর সহিংসতা ইত্যাদি মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনা-মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ, মুসলিম বাঙালি সেটেলারদের দ্বারা ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় ১,৯৩৩ জন জুম্ম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়, ৬৪টি গ্রাম সেনাবাহিনীর অভিযানের শিকার হয় এবং ৮৪টি বাড়ি ও পরিবারের সদস্যরা সেনা তল্লাসীর মুখে পড়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী ফোরামের ছয়টি এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।

পরিশেষে মনোজিত চাকমা সামরিকায়ন ও অধিকার কর্মীদের ক্রিমিনালাইজ বন্ধ করে অচিরেই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জনগণের মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে পার্মানেন্ট ফোরামকে উদাত্ত আহ্বান জানান।