চিম্বুক এলাকায় তীব্র খাবার পানির সংকটে আদিবাসী ম্রোরা, পাশে কেউ নেই

0
341

হিল ভয়েস, ২৭ এপ্রিল ২০২৩, বান্দরবান: বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক পাহাড় এলাকার অধিবাসী আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠী তীব্র খাবার পানির সংকটে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। খাবার ও অন্যান্য জরুরি ব্যবহার্য্য পানির অভাবে তাদের মধ্যে এখন হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে।

চিম্বুক এলাকার ২৮টি গ্রামের অন্তত ৮৭১টি ম্রো পরিবার এই মুহূর্তে পানির অভাবে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে তীব্র গরমে তাদের গ্রামের আশেপাশের প্রায় সকল ঝিরি, ঝর্ণা ও ছড়াসমূহ শুকিয়ে এই কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই গ্রামবাসীদের মধ্যে নানা শারীরিক জটিলতা বা অসুখ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

গ্রামবাসীদের অনেকেই মৌখিকভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার অবহিত করলে ও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি এবং পাশে দাঁড়ায়নি বলে একাধিক গ্রামবাসী জানান।
রিয়োং ম্রো নামে এক ব্যক্তি তার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মূলত গ্রীষ্ম মৌসুমে বছরের মার্চ – জুন মাসে পানির অভাব বেশি দেখা দেয়। সাম্প্রতিক যে গরম পড়েছে এতে নতুন করে আরো অনেকগুলো ঝিরিতে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার ঝিরিগুলোতে যতটুকু পানি পাওয়া যায় তা অধিকাংশ দূষিত পানি। অসচেতন গ্রামবাসীগণ অনেকে এই পানি সরাসরি পান করে ফেলে, যার ফলে পরবর্তীতে নানা রকমের রোগবালাই দেখা দিতেও পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘খাবার পানি সংগ্রহের জন‍্য পাহাড়ের নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। সারাদিন কাজ করে আবার রাতে সামান্যটুকু খাবার পানি পাওয়ার জন‍্য রাতভর না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অভাবের দিনে আমরা সরকারের কোনো প্রতিনিধিকেও পাশে পাচ্ছি না। যদি জেলা প্রশাসন থেকে এই (মার্চ-জুন) সময়টুকু যদি বান্দরবান শহর থেকে খাবার পানি সাপ্লাই করতে পারতো তাহলেই আমাদের পানি সংকটের কষ্ট কিছুটা হলেও কমে যেত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, সেখানে ম্রোদের এলাকায় কোনো টিউবওয়েলও নেই। তিনি দুঃখের সাথে বলেন, বহিরাগত সেটেলার বাঙালিদের প্রায় ঘরে ঘরে টিউবওয়েল রয়েছে, কিন্তু ম্রোদের নেই।

চিম্বুক এলাকায় পানির সংকটে পড়া গ্রামগুলো হল- ১। মেনলুং পাড়া- ২৬ টি পরিবার, ২। বাগান পাড়া ১৬ মাইল- ৩০টি পরিবার, ৩। রামারি পাড়া- ৬০টি পরিবার, ৪। রিয়ামনই পাড়া- ১৭টি পরিবার, ৫। মেনসিং পাড়া- ১১টি পরিবার, ৬। কাপ্রুপাড়া- ৫৫টি পরিবার, ৭। দলা পাড়া- ২৩টি পরিবার, ৮। এরা পাড়া- ২৬টি পরিবার, ৯। পাবলা হ‍েডম‍্যান পাড়া (চিম্বুক )- ৮০টি পরিবার, ১০। কিলাই পাড়া- ৯টি পরিবার, ১১। ভুইট্তা পাড়া- ১২টি পরিবার, ১২। পাতুই পাড়া- ১৭টি পরিবার, ১৩। ম্রলং পাড়া- ২৪টি পরিবার, ১৪। নোয়া পাড়া- ২২টি পরিবার, ১৫। ক্রামাদি পাড়া- ৪৪টি পরিবার, ১৬। বাবু পাড়া- ২৬টি পরিবার, ১৭। মেনদুই পাড়া- ৩২টি পরিবার, ১৮। দেওয়াই হেডম‍্যান পাড়া- ৩৬টি পরিবার, ১৯। রেনিক্ষ‍্যং পাড়া- ৩৫টি পরিবার, ২০। পরচ‍্যং পাড়া- ৮টি পরিবার, ২১। রুইফ পাড়া (ফোরা বাংলা)- ৩৫টি পরিবার, ২২। রাংক্লাং পাড়া- ২০টি পরিবার, ২৩। রাংলাই চেয়ারম্যান পাড়া- ২২টি পরিবার, ২৪। সিংচ‍্যং পাড়া- ৮টি পরিবার, ২৫। রাংলাই মধ্যম পাড়া- ২৪টি পরিবার, ২৬। এম্পুপাড়া- ৬০টি পরিবার, ২৭। কুরাং পাড়া- ৭০টি পরিবার ও ২৮। জামনি পাড়া- ৩৯ট পরিবার।

আরো পড়ুন

সিন্দুকছড়ি দুর্গম এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট

সাজেকে খাবার পানির সংকটে হাজার হাজার মানুষ