চন্দ্রঘোনা ওসি কর্তৃক মামলার আদেশ দেখিয়ে জেএসএস পরিবার থেকে টাকা আদায়

0
336

হিল ভয়েস, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কর্তৃক সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেখিয়ে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর স্থানীয় চারজন কর্মী পরিবার থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত ওসি ইতোমধ্যে উক্ত চার পরিবারের কাছ থেকে মোট ৬১ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসংহতি সমিতির কাপ্তাই থানা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি মেম্বার থোয়াই শৈ নু কার্বারি, রাইখালী ইউনিয়ন কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মেইফামং মারমা, মংখ্যাইচিং মারমা ও মংশৈপ্রু মারমা বাচ্চুর নামে চন্দ্রঘোনা থানায় মিথ্যা মামলা রয়েছে। সেনাবাহিনীর গ্রেপ্তার এবং সেনামদদপুষ্ট মগ পার্টি সন্ত্রাসীদের হামলা ও অপহরণের ভয়ে জনসংহতি সমিতির উক্ত চার কর্মী বেশ কিছুদন ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ইতোমধ্যে আদালতে বিচারাধীন উক্ত মামলায় উক্ত চার জেএসএস কর্মীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে ভয় দেখাচ্ছেন চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেএসএস কর্মীর পরিবারের সদস্য জানান, তিনি ইতোমধ্যে থানায় গিয়ে উক্ত সম্পত্তি ক্রোকের আদেশপত্র পড়ে দেখেন। তবে ওসি আদেশপত্রের ছায়ালিপি তাকে দেননি। এসময় ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী পর্যায়ক্রমে সমস্ত আসামির পরিবারের কাছে এই সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশপত্র যাবে বলে জানান।

মিথ্যা মামলার শিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবারের সদস্য জানান, ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ইতোমধ্যে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেখিয়ে চার পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে ৬১ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

তন্মধ্যে থোয়াই শৈ নু কার্বারির পরিবার ২১ হাজার টাকা, মেইফামং মারমার পরিবার ২০ হাজার টাকা, থুইসাচিং মারমার (তিনি জেএসএস কর্মী মংখ্যাইচিং মারমার ছোট ভাই) পরিবার ১০ হাজার টাকা এবং মংশৈপ্রু মারমার পরিবার ১০ হাজার টাকা ওসি’র নিকট জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখও ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী সাচিং মারমা নামে এক কর্মীর পরিবারের কাছে টাকা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জুম্ম আইনজীবী জানান যে, আদালতের আদেশ ব্যতীত প্রশাসন বা পুলিশ বাহিনী কর্তৃক সম্পত্তি ক্রোক করার কোন বিধান নেই। দায়েরকৃত মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হলে এবং আদালত যদি সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিলে, তবেই সেক্ষেত্রে সম্পত্তি ক্রোকের জন্য এধরনের আদেশ জারি হতে পারে। কিন্তু সাজার রায় ঘোষণার আগে সম্পত্তি ক্রোক করার প্রশ্নই উঠে না বলে জানান উক্ত আইনজীবী।

জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে জুম্ম জনগণের চলমান পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন তথা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বকে ধ্বংস করার অপতৎপরতার অংশ হিসেবে চন্দ্রঘোনা থানার ওসি এই অপকর্ম চালাচ্ছে বলে জানান জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সুবর্ণ চাকমা।