অপহরণ, নির্যাতন ও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তারকৃত ৬ চাক গ্রামবাসীর মুক্তির দাবিতে চাক সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

0
716

হিল ভয়েস, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, চট্টগ্রাম: সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে ভূমিদস্যুদের কর্তৃক এছামং চাককে অপহরণ এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবি কর্তৃক দোছড়ি ইউনিয়নে গ্রেপ্তার, মারধর, বাড়ি তল্লাশিসহ চাকদের স্বভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তারকৃত ৬ চাক গ্রামবাসীর মুক্তির দাবিতে আদিবাসী চাক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বিকাল ৪:০০ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন চাক জাতি ও নাগরিক সমাজ এর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

ক্যসাই চাক জীবন এর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নেতা উপায় ত্রিপুরা, সচেতন নাগরিক সমাজের নেতা আহ্লামং চাক প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা দোছড়ি ইউনিয়নে কামিছড়া চাক পাড়ায় যৌথ অভিযানে নিরপরাধ সাধারণ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার, ধরপাকড়, মারধর, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে চাক সম্প্রদায়কে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

বক্তারা বলেন, যেকোনো জাতির মাঝে ভালমন্দ নাগরিকের সন্নিবেশ রয়েছে। কিছু মুষ্টিমেয় লোকের দায়ভার সমগ্র চাক সমাজকে দিতে পারেন না এবং এভাবে তল্লাশি ও তল্লাশির নামে নারী-শিশুদের হয়রানি, নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর আইনি এখতিয়ার কারো নাই।

বক্তারা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দোছড়ি ইউনিয়নের কামিকছড়া এলাকায় স্থানীয় চাক জাতির লোকদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় সাধারণ নিরীহ নিরপরাধ জনগণের উপর মারধর তা অবিলম্বে বন্ধ করাসহ বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তারকৃত ৬ ব্যক্তির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার সকালে আলিকদম জোনের সেনাবাহিনী ও নাইক্ষ্যংছড়ি জোনের বিজিবি’র একদল সদস্য দৌছড়ি ইউনিয়নের কামিছড়া চাক পাড়ায় যৌথ অভিযান চালায়। উক্ত অভিযানে গ্রামবাসীদের বাড়ি তল্লাশি, হুমকি প্রদানসহ কামিছড়া চাক পাড়ার কার্বারী মংলাফো চাক (৬০), কার্বারীর ছেলে চিংলামং চাক (৪৫) ও তার মেয়ের জামাই (নাম জানা যায়নি), চিংলাঅং চাক (৫০) ও তাঁর ছেলে (নাম জানা যায়নি), লাগ্যছু চাক (৫৫) প্রমুখ নিরপরাধ ৬ জন গ্রামবাসীকে সেনা ও বিজিবি সদস্যরা অমানুষিক মারধরের পর ক্যাম্পে নিয়ে আটক করে রাখে।

এছাড়া গত ২৯ আগস্ট ২০২১ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ টায় ভূমিদস্যুদের কর্তৃক নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের মধ্যম চাক পাড়া নিবাসী এছামং চাক (৩০), পীং-ম্রাথোয়াই চাক নামে এক আদিবাসীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সম্প্রতি সেনাবাহিনী ও বিজিবি কর্তৃক এহেন গ্রেপ্তার, মারধর, হুমকি, ক্যাম্পে আটকে রাখা ইত্যাদি নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলে কামিছড়া চাকপাড়া, ক্রোক্ষ্যং চাক পাড়া ও ছাবোক্ষ্যং চাক পাড়া অচিরেই উচ্ছেদ হয়ে যাবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাক জনগোষ্ঠীর প্রবীণ ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ, সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কর্তৃক ডাকাতি, রাবার বাগান কোম্পানি কর্তৃক হয়রানি ও ভূমি বেদখল, নিরাপত্তাহীনতা, চাক নারীর উপর সহিংসতা ইত্যাদি কারণে ইতিপূর্বে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লংগডু চাক পাড়া, বাদুঝিড়ি চাক পাড়া, সাতঘয্যা চাকপাড়া উচ্ছেদ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।