হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে কলমপতি গণহত্যা উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

হিল ভয়েস, ২৫ মার্চ ২০২৫, রাঙ্গামাটি: গতকাল ২৫ মার্চ ২০২৫ খ্রিঃ হিল উইমেন্স ফেডারেশন, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে ১৯৮০ সালের ২৫শে মার্চ সেনা ও সেটেলার কতৃক সংঘটিত বর্বরোচিত কাউখালির কলমপতি গণহত্যার ৪৫ বছর উপলক্ষে শহীদের স্মরণে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্মরণ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জিকো চাকমা। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি রাঙ্গামাটি সদর থানার সভাপতি রিতেশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য আবৃত্তি দেওয়ান ও পিসিপির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ম্যাগলিন চাকমা।

স্মরণ সভায় গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। হিল উইমেন্স ফেডারেশন, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক উওয়াইনু মারমার সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহ সভাপতি কবিতা চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সদস্য সূচনা চাকমা।

প্রধান আলোচক ছাত্রনেতা জিকো চাকমা বলেন, আজ থেকে ৪৫ বছর আগে জুম্ম জনগণকে জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণের জন্য পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা ঘটানো হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের রাজনীতি, সামাজিক রীতিনীতি, অস্তিত্ব নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। সরকার বদল হয়েছে অনেকবার, কিন্তু পাহাড় নিয়ে রাষ্ট্রের যে দৃষ্টি তা বদল হয়নি।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়ন নিয়ে বর্তমান ছাত্র সমাজ কতটুকু ভাবছে তা প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা যে অধিকার পাওয়ার স্বপ্ন দেখছি সেখানে তরুণ সমাজের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে অধিকতর সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

যুবনেতা রিতেশ চাকমা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও জুম্মরা বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী দ্বারা নিপীড়িত নির্যাতিত ছিল, কিন্তু কখনো সুবিচার পায়নি। বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী চায় ১৪টি জাতিগোষ্ঠীকে মিউজিয়ামে সীমাবদ্ধ রাখতে। একদিকে উগ্র মৌলবাদী মুসলিম ধর্মান্ধ এবং উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী আগ্রাসন পার্বত্য চট্টগ্রামে বিস্তার লাভ করেই চলেছে, অন্যদিকে সামরিকায়ন জিইয়ে রাখা হয়েছে । এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন বিনা কোন পথ নেই। তার জন্য বর্তমান তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজকে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে।

আবৃত্তি দেওয়ান বলেন, শুধু কলমপতি গণহত্যা নয়, পাহাড়ের যতগুলো সাম্প্রদায়িক, গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার একটারও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে এই রাষ্ট্র গণহত্যা হোতাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ।

পিসিপির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ম্যাগলিন চাকমা বলেন, শুধু কাউখালিতে গণহত্যা হয়নি, অধুনা বাংলাদেশে আমরা দেখেছি লোগাং গণহত্যা থেকে শুরু করে ডজন খানেক গণহত্যা চালিয়েছিল শাসকগোষ্ঠী । আজ ৪৫ বছর হয়ে গেছে কলমপতি গণহত্যার ন্যায় বিচার মেলেনি।
রাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার সময় এসে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে কবিতা চাকমা বলেন, রক্তে রাঙানো এ ইতিহাস জুম্ম জাতি কখনো ভুলে নাই, ভুলবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সকলকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহবান জানান তিনি৷ আয়োজিত স্মরণসভার পর মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

More From Author