বাঘাইছড়িতে পিসিপির কাউন্সিল: চুক্তি বাস্তবায়নে ছাত্র-যুব সমাজকে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান

0
633

হিল ভয়েস, ১২ ডিসেম্বর ২০২২, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল কার্যক্রম প্রতিহত করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছাত্র ও যুব সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হোন’ শ্লোগান নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) বাঘাইছড়ি থানা শাখার ২০তম কাউন্সিল ও সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২২ বাঘাইছড়ি উপজেলার উগলছড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিপির বাঘাইছড়ি থানার বিদায়ী কমিটির সভাপতি পিয়েল চাকমা এবং সঞ্চালনা করেন একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিবরণ চাকমা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সদস্য পুলক জ্যোতি চাকমা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক খোকন চাকমা, পিসিপির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক টিকেল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ম্রানুচিং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির বাঘাইছড়ি থানা শাখার সভাপতি লক্ষীমালা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য শান্তিবিজয় চাকমা, যুব সমিতির বাঘাইছড়ি থানা শাখার সদস্য সচিব সুব্রত চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদায়ী কমিটির বাঘাইছড়ি থানা শাখার সহ-সভাপতি বাবু আশাপূর্ণ চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলক জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। জাতির এই সংকটের মুহূর্তে ছাত্র ও যুব সমাজকে সঠিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক খোকন চাকমা সরকারের বর্তমান চুক্তি বিরোধী কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সরকার চুক্তি বিরোধী বিভিন্ন দল-উপদল সৃষ্টি করে দিয়ে জুম্ম দিয়ে জুম্ম হত্যার মত হীন ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী সর্বশেষ তাদের নিজেদেরই তাবেদারি সংগঠনে জঙ্গির সম্পৃক্ততা দেখিয়ে জুম্ম জনগণকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাশাসনকে বৈধতা দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁটছে। যা কখনো কারোর জন্য শুভফল বয়ে আনবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রাঙ্গাামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক টিকেল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের নামে, পর্যটনের নামে জুম্মদের ধ্বংসের পায়তারা চালাছে শাসকগোষ্ঠী। বৃহত্তর জুম্ম অধ্যূষিত অঞ্চল সাজেক, অথচ আজ যেখানে সাজেকে স্কুল, কলেজের প্রয়োজন, সেখানে আজ সরকার মসজিদ নির্মাণ করেছে। তিনি এটিকে অমুসলিম অধ্যূষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চলে পরিণত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ম্রানুচিং মারমা বলেন, শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণকে বাঙালি করার গভীর ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, জুম্ম ছাত্র ও তরুণ সমাজকে অধিকারের বিষয়ে আরও অনেক অনেক সচেতন হতে হবে, সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব সমিতির বাঘাইছড়ি থানা শাখার সদস্য সচিব সুব্রত চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের উপর শাসকগোষ্ঠীর চলমান শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে জুম্ম ছাত্র ও তরুণদের দৃপ্ত শপথ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা শেষে পুনরায় পিয়েল চাকমাকে সভাপতি, চিবরণ চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং আবাহন চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট পিসিপির নতুন বাঘাইছড়ি থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয়।

নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াংরাও ম্রো।