হিল ভয়েস, ২৮ মার্চ ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: Centre for North East India Security Studies (CNEISS) নামে একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের নামে দিল্লীতে বসবাসরত সুহাস চাকমা (বাংলাদেশী নাম বোধিমিত্র চাকমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে গোয়েবলসীয় কায়দায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, সুহাস চাকমা নানা কিসিমের একের পর এক এনজিও গঠন করে চলেছেন। এসব এনজিওদের দিয়ে বিদেশী ও দেশীয় ফান্ড সংগ্রহ করে থাকেন এবং সময় বিশেষে এক একটি ব্যবহার করে ভারতীয় চাকমা নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তথাকথিত মানহানি মামলা দায়ের করে থাকেন ও বাংলাদেশের পিসিজেএসএসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে থাকেন। এনজিও ব্যবসায়ী সুহাস চাকমার ইতিমধ্যেই এরকম ছয়টি এনজিও চালু রয়েছে। এই এনজিওগুলো হলো- (১) এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, (২) ইন্ডিজিনাস ল’য়ার এসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া, (৩) এশিয়ান ইন্ডিজিনাস এন্ড ট্রাইবাল পিপলস নেটওয়ার্ক, (৪) রাইটস এন্ড রিস্ক এনালাইসিস গ্রুপ, (৫) চাকমা ডেভেলাভমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া, এবং (৬) চাকমা রিপোর্টার। এছাড়া সুহাস চাকমার আরেকটি সংগঠন খুলেছে, তার নাম ‘গ্লোবাল এসোসিয়েশন ফর ইন্ডিজেনাস পিপলস অফ দ্যা সিএইচটি।’
তার উপর সম্প্রতি চলতি মার্চ মাস থেকে CNEISS নামে আরেকটি এনজিও নিয়ে তিনি নতুন কায়দায় নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। অবশ্য নতুন মঞ্চে তার সেই একই পুরনো নাটক, পুরোনো ব্যবসা হলো পিসিজেএসএস এবং এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা। তিনি এখন এই এনজিও’র মাধ্যমে পিসিজেএসএস বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই CNEISS-কে তথাকথিত Think Tank হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছে।
এছাড়া ‘অল অরুনাচল প্রদেশ চাকমা রাইটস ফর্ম’ নামে আরেকটি ভূয়া সংগঠন খুলেছেন সুহাস চাকমা। এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সুহাস চাকমা কর্তৃক মিজোরামের লংত্লাই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ৮ জন চাকমার চাকরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তার অভিযোগের ভিত্তিতে সেই ৮ জনের চাকরি বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, অপপ্রচারে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য CNEISS-এর প্রতিনিধি হিসেবে জনৈক স্বপন দেববর্মাকে উপস্থাপন করা হয় এবং স্বপন দেববর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টালে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়ে সুহাস চাকমা পিসিজেএসএসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার শুরু করেছেন।
বিশ্বস্থসূত্রে জানা গেছে যে, ত্রিপুরার আগরতলা নিবাসী স্বপন দেববর্মা ২০১৩ সালে সুহাস চাকমার এনজিও ‘এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস’ (এসিএইচআর)-এ কাজ করেছিলেন। সেসময় এসিএইচআরের পক্ষে হয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিকট দুটো কেস ফাইল করেছিলেন স্বপন দেববর্মা, যার নাম্বারগুলো হচ্ছে Diary No. 69462/CR/2013 and 64415/CR/2013.
CNEISS-এর প্রতিনিধি হিসেবে স্বপন দেববর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে আসামের বিদ্রোহী সংগঠন উলফা, মিয়ানমারের রাখাইনের ইসলামী জঙ্গী সংগঠন আরসা ও আরএসও-এর সাথে পিসিজেএসএসের সংযোগ রয়েছে বলে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোটর্টালে প্রচার করা হয়। শুধু তাই নয়, মিজোরামে ধৃত আমেরিকান ও রাশিয়ান নাগরিকের সাথেও পিসিজেএসএসের সংযোগ রয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন সুহাস চাকমা।
পিসিজেএসএসের তথ্য ও প্রচার বিভাগের বিনয় ত্রিপুরা জানান যে, সুহাস চাকমার এসব অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক ও কল্পনাপ্রসূত বৈ অন্য কিছু নয়। মূলত ইউপিডিএফ থেকে প্রাপ্ত ষড়যন্ত্রমূলক এসাইনমেন্ট এবং মাসোয়ারা জায়েস করতেই সুহাস চাকমা এসব বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছেন।
সচেতন মহলে সুহাস চাকমার এসব অপপ্রচার হাস্যকর ও বিরক্তিকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। সুহাস চাকমার এসব কান্ডকারখানা দেখে অনেকেই বলেছেন, আগে মনে করতাম সুহাস চাকমার মধ্যে কিছু জ্ঞান-বুদ্ধি আছে। এখন দেখছি, অত্যন্ত সস্তা বুদ্ধির ও কাণ্ডজ্ঞানহীন একটা লোক তিনি। নীতি-আদর্শ বলতে কিছু নেই।
উল্লেখ্য, সেনা-মদদপুষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘ইউপিডিএফ’-এর মাধ্যমে সুহাস চাকমার পাকিস্তানের আইএসআই এবং চীনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রয়েছে। ইউপিডিএফের মাধ্যমে আইএসআই থেকে সুহাস চাকমা নিয়মিত মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন এবং সেই টাকা দিয়ে ভারতীয় চাকমা নেতৃবৃন্দের তথাকথিত মানহানি মামলা দায়ের করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পিসিজেএসএসের বিরুদ্ধে সাজানো ও কাল্পনিক সংবাদ তৈরি করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।