শিকলবন্দী চুক্তি

থ্রিশান তালুকদার

চুক্তির পাতায় শুকিয়ে গেছে কালি,
কিন্তু পাহাড়ের ক্ষত আজও ভেজা—
আটাশ বছরের প্রতিশ্রুতি
রাষ্ট্রের গলায় আটকে থাকা মিথ্যার কাঁটা।
এটি করুণা নয়—এটি অধিকার,
এটি দান নয়—এটি জাতির হিসাব।
পাহাড় কোনো অনুগ্রহের মানচিত্র নয়,
এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় বাস্তবতা।
পাঁচ সরকার গেল, দুই তত্ত্বাবধায়ক মিলিয়ে গেল,
ক্ষমতার চেয়ার বদলাল, মুখোশ পাল্টাল—
কিন্তু পাহাড় বদলাল না তার ভাগ্য,
চুক্তি রইল শিকলে বাঁধা বন্দী সত্য।
আঞ্চলিক পরিষদ—কাগজে সীমাবদ্ধ,
বাস্তবে ক্ষমতাহীন প্রহসন।
ভোটার তালিকায় অপাংক্তেয় পাহাড়ি,
প্রশাসনে তারা অনাহূত—
তবু মিথ্যা হাসি বলে, “সব ঠিক আছে”!
ভূমি কমিশন—চোখ বাঁধা বিচারক,
জুম্মর জমি আজও বেদখলে।
ইজারার নামে লুট,
উন্নয়নের নামে দখল—
পাহাড়কে শুধু সহ্য করতে হবে,
প্রতিবাদ করলেই সে ‘অপরাধী’।
অপারেশন উত্তরণ—শান্তির নামে পরিহাস,
বুকের ওপর বন্দুকের নীরব চুম্বন।
অস্থায়ী ক্যাম্প স্থায়ী হয়,
স্থায়ী বাসিন্দা হয় উদ্বাস্তু—
রাষ্ট্র কি তবে উল্টো হিসাব শেখায়?
শরণার্থীর ঘরে ফেরার পথ
আজও কাঁটাতারে মোড়া,
সমতলের প্রতিশ্রুতি বক্তৃতায় ভাসে,
বাস্তবে অপমান আর বিস্মরণ।
চাকরিতে পাহাড়ি নেই,
বনে পাহাড়ির অধিকার নেই,
আইনে পাহাড়ির পরিচয় নেই-
তবু ঘোষণা আসে, “সমতা আছে”!
কিন্তু পাহাড় জানে—
ন্যায় ভিক্ষা নয়,
চুক্তি মানে চুক্তি,
অবাস্তবায়ন মানে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
আজ কবিতা নয়—এটি অভিযুক্ত দলিল,
আজ শব্দ নয়—এটি পাহাড়ের চিৎকার।
চুক্তি বাস্তবায়ন কর—
নইলে ইতিহাস তোমাকে ক্ষমা করবে না।

More From Author

+ There are no comments

Add yours