লামায় সাবেক বাঙালি আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শ্মশান ও বসতভিটা দখলের চেষ্টা

হিল ভয়েস, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন লামা উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. জহিরুল ইসলাম কর্তৃক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শ্মশান ও বসতভিটা জবরদখল করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) লামা উপজেলার মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় ৬০ ত্রিপুরা পরিবারের ব্যবহৃত শ্মশান ও বসতভিটার জায়গা দখলের চেষ্টা চলানো হয় । মো. জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত লোক সেখানে এসে জায়গা পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জুম্মরা জানতে পেরে সেখানে গিয়ে বেদখলের চেষ্টাকারীদের থামানোর চেষ্টা করে। এতে জুম্ম এলাকাবাসী ও দখলদারদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের পিতা নাম নুরুল ইসলাম ( পেস্কার), তিনি মূলত নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। ১৯৮৩ সালের দিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদেরকে সেটেলার হিসেবে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, ২০১১ সালের দিকে মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় ৩ ভাই হালিরাম ত্রিপুরা, মালিরাম ত্রিপুরা ও পুণরাম ত্রিপুরা মিলে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো: জহিরুল ইসলামের নিকট ২ একর জমি প্রতি একরে ১১ হাজার টাকা করে বিক্রয় করে। পরে ২০১৩ সালে জহিরুল ইসলাম প্রায় ২ একর জায়গায় অতিরিক্ত ৩০০ একরের মতো জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আবারো সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম নিজের নামে দখল করা ৩০০ একর জায়গাটি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোস্তফা জামানের কাছে প্রতি একর ১ লক্ষ টাকা করে জায়গাটি বিক্রয় করেন।

পরবর্তীতে নিরঞ্জয় ত্রিপুরা, রায়চন্দ্র ত্রিপুরা, অনিক ত্রিপুরা, বীর বাহাদুর ত্রিপুরা এই চারজনের বিরুদ্ধে দখলদার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোস্তফা জামান মামলা দায়ের করেন ।

বর্তমানে উক্ত এলাকায় দখলদারদের কর্তৃক রিসোর্ট নির্মাণের জন্য নানাভাবে ভূমি বেদখলের পায়ঁতারা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দরিদ্র জুম্ম গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন বলে জানা গেছে।

More From Author

+ There are no comments

Add yours