হিল ভয়েস, ১ মার্চ ২০২৬, রাঙ্গামাটি: আজ (১ মার্চ) রাঙ্গামাটি জেলাধীন লংগদু উপজেলার ভাসন্যা আদাম ইউনিয়নের একদল নিরীহ জুম্মকে একটি পুরনো দেশীয় বন্দুক গুঁজিয়ে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বন্দুকটি বাজারে আসা সেটেলার বাঙালিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গুঁজে দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্যরা তা উদ্ধার করে জুম্মদের কয়েক ঘন্টা আটক করে রাখলেও পরে ছেড়ে দেয় বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ৫নং ভাসন্যাদম ইউনিয়নের অন্তর্গত খাগড়াছড়ি এলাকার ১৫/১৬জন জুম্ম নারী ও পুরুষ ইঞ্জিনবোট যোগে কাঁচা মালামাল বিক্রি করার জন্য কাট্টলীর “রাধামন বাজারে” যায়। মালামাল বিক্রি করার পর সকাল আনুমানিক ১১ঘটিকার সময় রাধামন বাজার থেকে ফেরার পথে কাট্টলী বিলের মাঝখানে ৪৫ বিজিবি, বরকল জোনের ৮ জনের একটি দল স্পীডবোট যোগে কাছাকাছি এসে জুম্মদের ইঞ্জিন বোটটি থামাতে ইঙ্গিত দেয়। এসময় বিজিবিদের ইঙ্গিতে জুম্মদের বোটটি থামালে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি দলটি অস্ত্র তাক করে স্পীডবোট থেকে জুম্মদের ইঞ্জিন বোটের উপর উঠে পরে এবং কাউকে কোনকিছু না বলেই বোটের ভিতরে তল্লাসী চালাতে থাকে।
এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ইঞ্জিনের পিছনে কাঠের নীচে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় অকেজো একটি দেশীয় তৈরী বন্দুক খুঁজে পায়। এরপর ইঞ্জিন বোটে থাকা জুম্মদেরকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে চারজনকে আলাদা করে একসাথে ছবি তোলে এবং তাদের যাবতীয় বায়োডাটা লিখে নেয়।
প্রায় ২ ঘন্টা যাবৎ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সবাইকে ছেড়ে দিয়ে যায়।
যাদেরকে আলাদা করে বায়োডাটা ও ছবি তোলা হয়েছে তারা হচ্ছেন-১। সত্য কুমার চাকমা (৫৫), পিতা- অমৃত লাল চাকমা; ২। মলেন্দ্র চাকমা(৫৬), পিতা- বিশ্বম্বর চাকমা, উভয়ের ঠিকানা- শীলকাটা ছড়া, ৫নং ভাসন্যাদম ইউনিয়ন, লংগদু; ৩। সনজিব চাকমা(৪৩), পিতা- রাজেন্দ্র চাকমা, ঠিকানা- কুসুমছড়ি, ৫নং ভাসন্যাদম ইউনিয়ন, লংগদু; ৪। লাল চুং জুয়াম পাংখোয়া(৪৬), পিতা- তোয়াজুয়াম পাংখোয়া, ২নং বরকল ইউনিয়ন, বরকল, রাঙ্গামাটি।
ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস, বাজারে আসা সেটেলার বাঙালিরাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অবৈধ অস্ত্র বলে ফাঁসানোর জন্য ওই বন্দুকটি বোটের যাত্রীদের অগোচরে রেখে দিয়েছে। কারণ বাজারে আসার সময় সেখানে কোনো বন্দুক ছিল না। বাজারে মালামাল বিক্রির জন্য বোটের সব যাত্রী বোট ছেড়ে বাজারে যায়। এই সুযোগে ওই কাজটি করা হয়।
আরো জানা যায়, বোটের মালিক সত্য কুমার চাকমা খুব নিরীহ একজন মানুষ। সম্প্রতি এক সেটেলারের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। তাই কারো কারো ধারণা, ওই ব্যক্তিই এই বন্দুক গুঁজে দেয়ার কাজ করতে পারে।