হিল ভয়েস, ১০ এপ্রিল ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন রোয়াংছড়ি উপজেলার ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে, ৩৩৮নং রোয়াংছড়ি মৌজার রোয়াংছড়ি পাড়ায় সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা মংহাইনু মারমা কর্তৃক জোরপূর্বক একই গ্রামের এক ব্যক্তির জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি হলেন: চসিংপ্রু মার্মা (হেডম্যান), পিতা-মৃত মংহ্লাচিং মারমা; ঠিকানা: রোয়াংছড়ি পাড়া, ১নং ওয়ার্ড, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান।
জানা যায়, ৩৩৮নং রোয়াংছড়ি মৌজার হেডম্যান চসিংপ্রু মার্মা বিগত ৫ অক্টোবর ১৯৮৪ জনকল্যাণমূলক কাজে ও জনস্বার্থে রোয়াংছড়ি সমাজ কল্যাণ সমিতিকে বিনা মূল্যে/ভাড়ায় শর্ত সাপেক্ষে ৬ শতক পরিমাণ জায়গা প্রদান করেন। শর্তে উল্লেখ করা হয়, যদি উক্ত সমিতির কোনো কার্যক্রম না থাকে, সমিতির স্থাপনা বিলীন হয়ে যায় অথবা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যায় তাহলে উক্ত হোল্ডিং নং-২৪০ এর ০.০৬ (ছয় শতক) একর জায়গাটি পুনরায় জায়গার মূল মালিকের বলে গণ্য হবে।

আরো জানা যায়, চুক্তির পরবর্তী কয়েক বছর ধরে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। অতঃপর কয়েক বছর পরিচালনার পর সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় । এমনকি সমিতির কোনো কার্যক্রম না থাকায় সমিতির নির্মিত ক্লাবঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে ২০০০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত (২২বছর) উক্ত জায়গায় রোয়াংছড়ি সমাজ কল্যাণ সমিতির কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে উক্ত জায়গাটি রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবকে হেডম্যান চসিংপ্রু মার্মা প্রদান করেন । কিন্তু উক্ত দানকৃত জায়গায় প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ করতে গেলে রোয়াংছড়ির ছাত্রসমাজ ও এলাকাবাসী সকলে মিলে হেডম্যানকে উক্ত জায়গাটি আবারো রোয়াংছড়ি সমাজ কল্যাণ সমিতির নামে দান করার জন্য অনুরোধ করেন। এতে এলাকাবাসী সকলে পুনরায় রোয়াংছড়ি সমাজ কল্যাণ সমিতি নতুন করে চালু করবে ও এলাকায় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে বলে অবগত করেন। সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে উক্ত জায়গাটি সমাজ কল্যাণ সমিতির কাছে হেডম্যান আবারও জায়গাটি দান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কিন্তু এই খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার সাবেক আওয়ামীলীগের সভাপতি মংহাইনু মারমা উক্ত জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করেন। এতে হেডম্যান চসিংপ্রু মারমা বাধা প্রদান করলে মংহাইনু মারমা হেডম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে হেডম্যান চসিংপ্রু মারমাও পাল্টা মামলা করেন।

পরে আদালত উক্ত জায়গাটি মাপার জন্য উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে আদেশ দেন। এই আদেশ পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার নির্বাহী অফিসার সেখানে গেলে সাবেক আওয়ামীলীগের নেতা মংহাইনু মারমা ও আথুইমং মারমা বাধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জায়গার সঠিক পরিমাণ মাপা যায়নি বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে , আথুইমং মারমা ও মংহাইনু মারমা-এই দুই ব্যক্তি প্রশাসন ও আইনের তোয়াক্কা না করে উক্ত জমি বেদখল করেছেন। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সমাজ কল্যাণ সমিতির জমি পুনরুদ্ধার করা হোক।
+ There are no comments
Add yours