বান্দরবানের এক আদিবাসী তরুণীকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে ভয়াবহ প্রতারণা, গণধর্ষণ ও জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানোর অভিযোগ

হিল ভয়েস, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান সদর উপজেলার এক আদিবাসী মারমা তরুণীতে মং মারমা নামে এক যুবক কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে মো. রুবেল হোসেন (২৮) ও তার স্ত্রী নুমেউ মারমা (২৫) হাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তুলে দিয়ে ভয়াবহ প্রতারণা, এক মাস ধরে গণধর্ষণ ও জোরপূর্বক দেহব্যবসার করানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এক মাস আগে অভিযুক্ত প্রতিবেশী মং মারমা, রুবেল হোসেন ও নুমেউ মারমা তার বাড়িতে আসে। যদিও নুমেউ মারমা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে । তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সুকৌশলে ভুক্তভোগী তরুণীকে কক্সবাজারে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বান্দরবান থেকে কক্সবাজার চৌফলদন্ডী স্থানে আসার পর তাকে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে ৭-৮ জন বাঙালির ছেলের মাধ্যমে গণধর্ষণ করানো হয়।

এরপর তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেখিয়ে জিম্মি করে পূর্ব পাহাড়তলীর ইছুলের ঘোনা এলাকার মান্নাত ম্যানশন নামে একটি ভবনে ৫ম তলার ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী আরো জানান, তাকে ১ মাসের অধিক আটকে রেখে প্রতিদিন নিয়ে যাওয়া হয় পতিতাবৃত্তিতে। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল কটেজে পতিতাবৃত্তি করানো হয় এবং বাকি সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ফ্ল্যাটে। এমনকি যে ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে, সেখানেও ঘুমন্ত অবস্থায় রুবেল তার বন্ধুদের নিয়ে এসে তরুণীর সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য বাধ্য করানো হয়।

রুবেলও তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং ইয়াবা, ঘুমের ঔষধ সেবনের জন্য রুবেল হোসেন ও তার স্ত্রী নুমেউ মারমা প্রতিনিয়ত বাধ্য করে। পরে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরও করা হয়।

এরপর রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮ ঘটিকার সময়ে কোনরকম ছাড়া পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নেমে পাহাড়তলির একটি চায়ের দোকান এসে আশ্রয় নেন। পরে এলাকাবাসী জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে ঐ তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রুবেল হোসেন ও নুমেউ মারমাকে আটক করে।

জানা যায়, মো. রুবেল হোসেনের বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। এক বছর আগে নুমেউ মারমা ধর্মান্তরিত হয়ে রুবেল হোসেনকে বিয়ে করে।

স্থানীয় সূত্র মোতাবেক, তারা পাহাড়ী মেয়েদের অর্থের প্রলোভন ও বিভিন্ন সুকৌশলে তাদের ফাঁদে ফেলে কক্সবাজারে নিয়ে আসার মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার একটি চক্র গড়ে তুলেন।

এই ধরণের ঘটনা বান্দরবানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

More From Author