পিসিপি’র কাপ্তাই থানা শাখা ও কর্ণফুলী সরকারি কলেজ শাখার সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

হিল ভয়েস, ৪ এপ্রিল ২০২৬, রাঙ্গামাটি: গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) “সকল প্রকার বিভেদ ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপ), কাপ্তাই থানা শাখার ১৭তম ও কর্ণফুলী সরকারি কলেজ শাখার ১৯তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ বিকাশ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি সহ-সভাপতি সেবিকা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা প্রমুখ।

সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এযাবৎকালে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পিসিপি’র কাপ্তাই থানা শাখার বিদায়ী কমিটির অর্থ সম্পাদক অনন্ত জীবন তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি কাপ্তাই থানা শাখার সভাপতি কেতন তঞ্চঙ্গ্যা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি, কাপ্তাই থানা শাখার সদস্য জিসান মার্মা।

অরুণ ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন, নির্যাতনের যাঁতাকলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে আজও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সংগ্রাম থেকে পিছপা হয়নি। তিনি জুম্মদের মরণফাঁদ কাপ্তাই বাঁধের কথা স্মরণ করে বলেন, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করার পূর্বে জুম্মদের বলা হয়েছিলো জমির বদলে জমি, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা জুম্মরা ভোগ করতে পারবে এই আশ্বাস দেখিয়ে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধের বিরুদ্ধে এম এন লারমা ছাত্রাবস্থায় প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ছাত্র সমাজকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। ছাত্র সমাজই পারবে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে। তাই তিনি ছাত্র সমাজকে চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্তর চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসংহতি সমিতি দীর্ঘ দুই যুগের অধিক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পরিচালনা করে শাসকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। এতে শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়েছিল চুক্তিতে উপনীত হতে। জুম্ম জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে এম এন লারমা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মহান নেতার আদর্শকে ধারণ করে আমাদের সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংগঠন হলো লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার। জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র সমাজকে অবশ্যই অধিকতর আন্দোলনে সামিল হতে হবে। পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রমকে প্রতিহত করতে জুম্ম তরুণ ছাত্র সমাজকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।

সেবিকা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি জুম্মদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দলিল। সরকার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে জুম্মদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিতে চায়। জুম্ম ছাত্র সমাজকে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

সজল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ যুগ যুগ ধরে কারাগারে বন্দী অবস্থায় রয়েছে। এই বন্দীশালা থেকে মুক্তির উপায় হলো আন্দোলন সংগ্রাম সংঘটিত করা। আর এই আন্দোলন সংগ্রাম করতে প্রয়োজন সংগঠন ও সঠিক নেতৃত্ব। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী পরিষদ হলো জুম্ম ছাত্র সমাজকে একমাত্র নেতৃত্বদানকারী সংগঠন।

তিনি আরও বলেন, ৭২ এর সংবিধান রচনাকালে এই শাসকগোষ্ঠী আমাদের বাঙালি বানিয়েছিল এবং এখনো অব্দি জুম্মদের বাঙালিকরণ প্রক্রিয়াসহ নানাভাবে জুম্মদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে শাসকগোষ্ঠী মরিয়া হয়ে রয়েছে। সেই কারণে এম এন লারমার নেতৃত্বে আন্দোলন সূচিত হয়েছে এবং তারই ফলস্বরূপ পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে বৃহত্তর আন্দোলনে ছাত্র সমাজকে অধিকতর সামিল হতে হবে।

সম্মেলনে কেতন তঞ্চঙ্গ্যাকে সভাপতি, অনন্ত জীবন তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং জিসান মার্মাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পিসিপির কাপ্তাই থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পিসিপির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ শাখা গঠন করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিদ্বয়কে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জামাধন তঞ্চঙ্গ্যা।

More From Author