হিল ভয়েস, ৫ মার্চ ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিকট পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের পক্ষে ৬২ জন বিশিষ্ট নাগরিক কর্তৃক এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা হচ্ছে একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসীদের দ্বারা ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন বিধিমালা প্রণীত না হওয়ার কারনে অদ্যাবধি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তাই বর্তমানে অর্ন্তবর্তীকালীন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ বহাল রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কার্যাবলী যথাযথভাবে হস্তান্তরিত হয়নি। ফলত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ বস্তুত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, একদিকে ব্রিটিশ প্রদত্ত ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎ রয়েছে অপরদিকে অপারেশন উত্তরণ নামক এক ধরনের সেনা কর্তৃত্ব তিন পার্বত্য জেলায় কার্যকর রয়েছে। বস্তুত অপারেশন উত্তরণের বদৌলতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ সকল ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনা কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলশ্রুতিতে তিন পার্বত্য জেলায় সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন তথা পার্বত্য অঞ্চলের সকল ক্ষেত্রে জটিল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। তাই পার্বত্যবাসীদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় নবনির্বাচিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী ও আরেকজন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচনা করা যায়।
৬২ সদস্য বিশিষ্ট স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ১৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, ‘উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে এবং এই মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করিবার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইবে।’
কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। যেটি নিঃসন্দেহে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক ও বিধিসম্মত নয় বলে গন্য করা যায়। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রদত্ত এ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করার ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে যা কারোর জন্য কাম্য হতে পারেনা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান তথা পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ শাসনব্যবস্থা কার্যকর হতে পারছেনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদে কাউকে পদায়ন করা বিধিসম্মত নয় বলে উক্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের স্বার্থে তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট নিম্নোক্ত দাবীসমূহ পেশ করা হয়-
১। মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ হতে প্রত্যাহার করা।
২। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পদে কাউকে পদায়ন না করা।
৩ । রোডম্যাপ প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন-
১.ঊষাতন তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য, ২৯৯ নং আসন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা
২.প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা (অব: উপ সচিব), সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘ক’ অঞ্চল
৩.বিজয় কেতন চাকমা, সভাপতি, এম এন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন, রাঙ্গামাটি
8.শিশির চাকমা, বিশিষ্ট লেখক ও সভাপতি, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক)
৫.অ্যাডভোকেট জুয়েল দেওয়ান, বিশিষ্ট আইনজীবী, রাঙ্গামাটি
৬.ইন্টুমনি তালুকদার,সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, রাঙ্গামাটি
৭.চন্দ্র কুমার চাকমা,সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি
৮.মোহনী রঞ্জন চাকমা, অব: প্রকৌশলী, সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, রাঙ্গামাটি জেলা শাখা
৯.সুরেন্দ্র লাল চাকমা, অব: প্রকৌশলী, এলজিইডি, রাঙ্গামাটি
১০.শান্তি বিজয় চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হেডম্যান নেটওয়ার্ক, রাঙ্গামাটি
১১.জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা,অব: খাদ্য কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি
১২.জহর বিকাশ চাকমা, অব: প্রকৌশলী, রাঙ্গামাটি
১৩.প্রসন্ন কুমার চাকমা, অব: প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট লেখক (চাকমা ভাষা), রাঙ্গামাটি
১৪.শুক্র কুমার চাকমা, সভাপতি, আদিবাসী পাহাড়ী বৈদ্য শাস্ত্রীয় বহুমুখী কল্যাণ সমিতি, রাঙ্গামাটি
১৫.ইন্দুলাল চাকমা, অব: জেলা মৎস্য কর্মকর্তা,রাঙ্গামাটি
১৬.পলাশ কুসুম চাকমা,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি
১৭.যতীন বিহারী চাকমা, বিশিষ্ট ঠিকাদার
১৮.বিজয় গিরি চাকমা, সাবেক সভাপতি, ত্রিদিব নগর ব্যবসায়ী; সমবায় সমিতি, রাঙ্গামাটি
১৯.থুয়াসা খিয়াং, সংস্কৃতি কর্মী, রাঙ্গামাটি
২০.লোমা লুসাই, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, রাঙ্গামাটি
২১.চন্দ্র শেখর তালুকদার, হেডম্যান, গোরস্থান মৌজা, বরকল
২২.মালেকা চাকমা, কার্বারী বিহারপুর, রাঙ্গামাটি
২৩.বরুন কান্তি চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ
২৪.অন্ন সাধন চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদ
২৫.বিধান চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান, বরকল উপজেলা পরিষদ
২৬.রিতা চাকমা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, রাজস্থলী সদর উপজেলা পরিষদ
২৭.খোয়াই অং মারমা,চেয়ারম্যান, ১১৯ নং বাঘাইছড়ি মৌজা কাউন্সিল, রাঙ্গামাটি
২৮.অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, সহ-সভাপতি, সিটিজেন ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক
২৯.শ্যামা চাকমা, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান, বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ, রাঙ্গামাটি
৩০.শান্ত আসাম, সাধারণ সম্পাদক, অগ্রগামী উন্নয়ন সংস্থা, রাঙ্গামাটি
৩১.সুরেন কুমার চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ, রাঙ্গামাটি
৩২.ইন্দ্র দত্ত তালুকদার, সাবেক সভাপতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, রাঙ্গামাটি
৩৩.স্মৃতি শংকর চাকমা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, রাঙ্গামাটি
৩৪.শান্তিময় ত্রিপুরা, বিশিষ্ট নারী নেত্রী, রাঙ্গামাটি
৩৫.জুরান তঞ্চঙ্গ্যা, চিত্র শিল্পী, রাঙ্গামাটি
৩৬.অং চাক, অব. সরকারি কর্মকর্তা, কাউখালী, রাঙ্গামাটি
৩৭.ক্যথোয়াই মারমা, সহকারী অব. শিক্ষক, রাঙ্গামাটি
৩৮.পরীক্ষিত চাকমা, সহকারী অব. শিক্ষক, রাঙ্গামাটি
৩৯.নীতি ভুবন চাকমা, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাঙ্গামাটি
৪০.নয়ন জ্যোতি চাকমা, অব. জেলা খাদ্য কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি
৪১.রতন চাকমা, অব. সরকারি কর্মচারী, রাঙ্গামাটি
৪২.অ্যাডভোকেট দীপন চাকমা, বিশিষ্ট আইনজীবী, রাঙ্গামাটি
৪৩.চিত্ত রঞ্জন চাকমা, অব. প্রকৌশলী, রাঙ্গামাটি
৪৪.মালবিকা দেওয়ান, আইনজীবী, রাঙ্গামাটি
৪৫.মিল্টন বড়ুয়া, সাংবাদিক, রাঙ্গামাটি
৪৬.মধু মঙ্গল চাকমা, অবঃ অধ্যাপক, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি
৪৭.সন্তোষিত চাকমা বকুল, সাধারণ সম্পাদক, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতি, খাগড়াছড়ি
৪৮.নব কুমার চাকমা, সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা
৪৯.নমিতা চাকমা, উন্নয়ন কর্মী, খাগড়াছড়ি
৫০.চাথোয়াই মারমা, সাংবাদিক, খাগড়াছড়ি
৫১.সাগর রানী চাকমা, অবঃ শিক্ষক, খাগড়াছড়ি
৫২.ত্রিপন জয় ত্রিপুরা, সাংবাদিক, খাগড়াছড়ি
৫৩.ডা:মং উষা থোয়াই মার্মা, সাবেক সিভিল সার্জন ও সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা শাখা
৫৪.মংক্যশৈনু (নেভী), অবঃ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও সভাপতি, সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়ন, বান্দরবান
৫৫.উচ মং মারমা, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা
৫৬.উ উইন মং জলি, লেখক ও সংস্কৃতি কর্মী, বান্দরবান
৫৭.ক্যসামং মারমা, বিশিষ্ট লেখক ও সংস্কৃতি কর্মী, বান্দরবান
৫৮.জিরকুং সাহু বম, বিশিষ্ট লেখক ও সমাজ কর্মী, বান্দরবান
৫৯.জিংমুলিয়ান বম, বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী, বান্দরবান
৬০.তনয়া ম্রো, সভাপতি, ম্রো ছাত্র এসোসিয়েশন, বান্দরবান
৬১.জুলিয়ান আলমাই, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন, বান্দরবান
৬২.লেনুং খুমি, উন্নয়ন ও সমাজকর্মী, বান্দরবান।