হিল ভয়েস, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ঢাকা: আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় নির্বাচনোত্তর যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তাতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রতিরোধ করার দাবিতে ৩৭ জন নাগরিক একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সারা দেশে কোনো বড় রকমের সহিংসতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তা ম্লান করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনের একদিন পর দেশের বেশ কিছু জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সহিংস আক্রমণ, পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
এই ঘটনায় ১ জন নিহত ও বেশ কিছু হতাহতের তথ্য উঠে এসেছে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একটি দলকে ভোট দেবার শাস্তিস্বরূপ জরিমানা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। যদিও নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন যে কোনে বিশৃংখলা থেকে বিরত থাকা এবং শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তার দলের কর্মী সমর্থকদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যে সকল দল বা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই সকল অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে সেইসব দল ও প্রার্থীদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো তাদের কর্মী-সমর্থকদের সকল ধরনের সহিংসতার চেষ্টা থেকে বিরত রাখার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। একই সাথে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সকল বাহিনী, বিশেষত পুলিশ, মাঠে কর্মরত বিজিবির সদস্যদের এই ব্যাপারে দৃশ্যমান ও কার্যকর তৎপরতা বৃদ্ধি করা।
নাগরিক বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার সদ্য নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বাস্তবতায় এ ধরনের সহিংসতা, সংঘাত কোনো কোনো অদৃশ্য মহলের কাম্য হলেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় প্রয়াসের বিরুদ্ধে বড়-ছোট বিজয়ী-বিজিত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিও আহবান দেশে শান্তি-শৃংখলা এবং নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, প্রবীণসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তার সুরক্ষা দেবার প্রশ্নে যে সকল প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের সময় বারংবার উচ্চারণ করেছেন, তার প্রতি পূর্ণ সুবিচার করবেন। সেইসাথে সকল পর্যায়ের নেতা, কর্মী সমর্থককে এ মুহূর্তে সকল সহিংসতা পরিহার এবং সকল ভিন্নমতের ব্যক্তি গোষ্ঠীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকরভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নাগরিকগণ হচ্ছেন-
১. ড. হামিদা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী
২. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন
৩. আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ, সাবেক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
৪. খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি
৫. ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি
৬. রাশেদা কে. চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা
৭. অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি, আইন ও সালিস কেন্দ্র
৮. আবু সাঈদ খান, লেখক ও সাংবাদিক
৯. ড. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী
১০. ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অনরারি নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট ও সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
১১. শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি
১২. শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
১৩. তাসলিমা ইসলাম, প্রধান নির্বাহী, বেলা
১৪. ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫. অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
১৬. অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
১৭. ড. ফস্টিনা পেরেইরা, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
১৮. তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯. রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২০. ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২১. ড. ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
২২. পাভেল পার্থ, লেখক ও গবেষক
২৩. অ্যাডভোকেট সালমা আলী, নির্বাহী পরিচালক, বি এন ডব্লিউ এল এ
২৪. রেহেনুমা আহমেদ, লেখক
২৫. ঈশিতা দস্তিদার, লেখক ও গবেষক
২৬. পল্লব চাকমা, নির্বাহী পরিচালক, কাপেং ফাউন্ডেশন
২৭. মনিন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
২৮. কাজল দেবনাথ, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
২৯. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
৩০. পারভেজ হাশেম, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী
৩১. রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট
৩২. জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ
৩৩. অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন
৩৪. সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী
৩৫. দীপায়ন খীসা, মানবাধিকার কর্মী
৩৬. মেইনথিন প্রমীলা, আদিবাসী অধিকার কর্মী
৩৭. হানা শামস আহমেদ, পিএইচডি গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা।
+ There are no comments
Add yours