হিল ভয়েস, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩ নং ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কর্তৃক তিনজন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক এবং অপর দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা, পিতা: কালিচরণ তঞ্চঙ্গ্যা, মাতা: মাউককেং তঞ্চঙ্গ্যা, গ্রাম: জামিরতলী, ইউনিয়ন: ঘুমধুম, ৯নং ওয়ার্ড, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিচয়ের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নানা অজুহাতে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা জন্মের পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন। গত ২৪ জানুয়ারি টেকনাফের হরিখোলা বৌদ্ধ বিহারে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সে গাড়িতে না গিয়ে হেঁটে রওনা দেন।
এই সময়, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে পথে কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর ও নানাভাবে হুমকি প্রদান করে।
অন্যদিকে গত ২২ জানুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময়ে বাগানে ফুলঝাড়ু কাটার সময় বর্নমালা তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক নারী ও কালু তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যুবককে অস্ত্রধারী তিনজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী (আরসা) কর্তৃক আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সকালে ফাত্রাঝিড়ি গ্রাম থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরে বাগানে ঝাড়ু কাটতে যান তারা। এ সময় হঠাৎ করে অস্ত্রধারী তিনজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী (আরসা) তাদের আটক করে একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দুজনকেই নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে বর্নমালা তঞ্চঙ্গ্যাকে মারধরের পর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও কালু তঞ্চঙ্গ্যাকে প্রায় তিন ঘন্টা সেখানে আটকে রাখা হয় এবং তাকে সেখানে মারধর করা হয়।
পরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের জানিয়ে দেয়, তারা (পাহাড়িরা) যেন পাহাড়ি এলাকায় আর প্রবেশ না করে সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
+ There are no comments
Add yours