হিল ভয়েস, ১৭ মার্চ ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নয়াদিল্লির এক আদালত ভারতে অনেকের কাছে মামলাবাজ ও মানবাধিকার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সুহাস চাকমার (বোধিমিত্র চাকমা) দায়েরকৃত একটি মিথ্যা মানহানিকর মামলা খারিজ করে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত ১৩ মার্চ ২০২৬ নয়াদিল্লির দ্বারকার একটি আদালতের বিচারক হরজোত সিং আউজা (JMF-11, South West, Dwarka) মামলাটির শুনানি শেষে খারিজের চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
মামলার ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সত্যেরই জয় হয়েছে। তারা বলেছেন, অরুণাচল প্রদেশের চাকমা ছাত্র সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করার এবং তাদের কণ্ঠরোধ করার যে অপচেষ্টা সুহাস চাকমা চালিয়েছিলেন, তা আজ ভারতের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। দিল্লির দ্বারকা আদালত সুহাস চাকমার দায়ের করা মানহানি মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা হিসেবে গণ্য করে খারিজ করে দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে বর্তমান All India Chakma Students’ Union (AICSU)-এর সভাপতি দৃশ্য মনি চাকমা (তৎকালীন সভাপতি, Arunachal Pradesh Chakma Students’ Union) সহ অরুণাচল প্রদেশের ১২ জন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে সুহাস চাকমা একটি ফৌজদারি মানহানি মামলা (Ct. Cases 2241/2022) দায়ের করেন।
সুহাস চাকমার অভিযোগ ছিল— তারা সুহাস চাকমার বিতর্কিত ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, গুয়াহাটির ‘The Sentinel’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের কারণে তার মানহানি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছাত্রদের থেকে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ছাত্রদের হয়রানি করা এবং অর্থ আদায় করা।
মামলার রায়ের ফলে সুহাস চাকমার অভিযোগ অন্তঃসারশূন্য এবং ষড়যন্ত্রমূলক ও হীনউদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত সুহাস চাকমা ভারতের কয়েক ডজন চাকমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা মানহানিকর মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সাথে কেউ যুক্তিতর্ক বা তাকে সমালোচনা করলেই তিনি তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখান এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে থাকেন।
+ There are no comments
Add yours