হিল ভয়েস, ২৯ আগস্ট ২০২৫, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলাধীন জুরাছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আটককৃত ১৭ গ্রামবাসীকে কয়েকদিন যাবৎ আটক রেখে নিপীড়ন চালিয়ে ও হয়রানি করে অবশেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
গত ২৬ আগস্ট থেকে জুরাছড়ির পার্শ্ববর্তী বিলাইছড়ি উপজেলার ৩২ বীর দীঘলছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম (বিএ-৮৭৬৩), ক্যাপ্টেন ফারহান ও ক্যাপ্টেন মুশফিকুর এর নেতৃত্বে ৮২ জনের একটি সেনাদল জুরাছড়ির ৪নং দুমদুম্যা ইউনিয়ন ও ৩নং মৈদুং ইউনিয়নে সেনা অভিযান শুরু করে। এসময় সেনা সদস্যরা ‘গাদা বন্দুক’ (স্থানীয়ভাবে তৈরি শিকারের জন্য ব্যবহার্য) পাওয়ার অভিযোগে ৪নং দুমদুম্যা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চাঞ্চল পাড়া ও ৩নং মৈদুং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গব উল চুক গ্রামের ১৭ গ্রামবাসীকে আটক করে।
আটকের পর আটককৃতদের মধ্যে ১০ জনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং ৭ জনকে একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেনাবাহিনীর এমন নিরীহ গ্রামবাসীদের নির্বিচারে ধরপাকড়ের ফলে জুম্ম গ্রামবাসীদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং এরপর আশেপাশের গ্রামের বাড়ির নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা ছাড়া অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।
জানা গেছে, আটককৃত ১৭ জনের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশু ছিল। তাকে আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রায় দুইদিন আটক রাখার পর, গতকাল (২৮ আগস্ট), দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মৈদুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা, ৪নং দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শান্তরাজ চাকমা ও গ্রামের অন্যান্য মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া উক্ত ১০ গ্রামবাসী হলেন- দুমদুম্যা ইউনিয়নের চাঞ্চল পাড়া গ্রামের (১) চিজি মনি চাকমা, (২) নিগিরা ধন চাকমা, (৩) নেতাজি চাকমা, (৪) তুফান চাকমা, এবং মৈদুং ইউনিয়নের গবহুলো চুক গ্রামের (৫) নন্দলাল চাকমা, (৬) কালা উদো চাকমা, ৭) অমর কান্তি চাকমা, (৮) আকাশ চাকমা সহ আরও দুই জন।
অপরদিকে, প্রায় তিনদিন আটক রাখার পর সেনাবাহিনী অবশিষ্ট ৬ গ্রামবাসীকে আজ (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ছাড়া পাওয়া উক্ত ৬ গ্রামবাসী হলেন- দুমদুম্যা ইউনিয়নের চাঞ্চল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা (১) দেবরাজ চাকমা (৩২), (২) গোপাল চাকমা (২২), (৩) চাগাহুলো চাকমা (৩৩) এবং মৈদুং ইউনিয়নের গব উল চুক গ্রামের (৪) নিলময় চাকমা (৩৬), (৫) কালা চাকমা (১৯), (৬) পান্দব চাকমা (১৬)।
তবে, সেনাবাহিনী এখনো উক্ত গ্রামসমূহে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
+ There are no comments
Add yours