চবিতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

হিল ভয়েস, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আদিবাসীদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে আয়োজিত উক্ত কর্মসূচির উদ্যোগ নেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

মানববন্ধনের আগে শহীদ মিনার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত একটি মিছিল বের করা হয়।

পিসিপির তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিশন চাকমার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবীর বলেন, বাংলা ভাষার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছে, তাই অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে পঞ্চাশের অধিক আদিবাসী জাতিসত্তা বসবাস করলেও তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পিসিপির সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভাষা-ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও দেশের সংখ্যালঘু আদিবাসী জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অবমূল্যায়িত। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বান্দরবানের রেংমিতচ্যে ভাষা বিলুপ্তির পথে। একটি শিশু তার মাতৃভাষার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল্যবোধ শিখে- তাই প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষা নিশ্চিত করা জরুরি।

রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অভাব রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে এবং মধুপুরে গারোদের ফসলি জমি দখলের প্রচেষ্টা আদিবাসীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এসব সংকট নিরসনে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ও উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অন্বেষ চাকমা বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি তার ভাষা। স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দাবি তখনই অর্থবহ হবে, যখন একজন আদিবাসী শিশু তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষালাভের সুযোগ পাবে। সংবিধানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্ব স্ব পরিচয়ের স্বীকৃতি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মানববন্ধন থেকে মূলত দুইটি দাবি উত্থাপন করা হয়:-

১. সংবিধানে আদিবাসী জাতিসত্তাসমূহের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।

২. আদিবাসী শিশুদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অবিলম্বে চালু করা।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা কেবল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সকল ভাষা ও জাতিসত্তার সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই এর পূর্ণতা আসতে পারে।

More From Author