হিল ভয়েস, ১ এপ্রিল ২০২৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিঝু-বিষু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিহু উপলক্ষে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা এবং এই সময়ে নির্ধারিত সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত (৩১ মার্চ) মঙ্গলবার সকাল ৯ ঘটিকার সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এই উৎসবগুলোকে স্থায়ীভাবে ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত ১৪টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। প্রতিবছর ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো উদযাপিত হয়। সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে বৈষম্যহীনতার কথা বলা হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলা নববর্ষের ছুটি রাখলেও আদিবাসীদের এই বৃহৎ উৎসবগুলোতে কোনো ছুটির ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে উল্লেখ করেন যে, গত বছর (২০২৫) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এসএসসি পরীক্ষার রুটিন সংশোধন করে আদিবাসীদের উৎসবের দিনগুলোতে পরীক্ষা স্থগিত করেছিল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত ও ছুটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এমনকি গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ১২-১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
আদিবাসী শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই সবচেয়ে বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অথচ বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি উত্থাপন করেন:
১. ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫ দিন চবিতে ছুটি ঘোষণা করা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারে তা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।
২. ইতোমধ্যে যেসব বিভাগে ১২-১৬ এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করা।
বার্তা প্রেরক জাল্লাং এনরিকো কুবি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ) এবং রিবেক চাকমা (পালি বিভাগ) জানান, তারা আশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ সংস্কৃতি পালনের সুযোগ করে দেবে।
+ There are no comments
Add yours