খাগড়াছড়িতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে জুম্মদের ওপর হামলা, ৩ জন গুরুতর আহত

হিল ভয়েস, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, খাগড়াছড়ি: গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার অন্তর্ভুক্ত খালপাড় নামক স্থানে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক ৩ জন জুম্মকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানা যায়।

তিনজন ভুক্তভোগী হলেন- ১) থৈহ্লাঅং চৌধুরী (৬৮), পিতাঃ ক্যজই চৌধুরী , ঠিকানাঃ হেডম্যান পাড়া; ২) বিমল ত্রিপুরা (৩৭), পিতাঃ মনোরম ত্রিপুরা, ঠিকানাঃ নতুনপাড়া এবং ৩) মিলন চাকমা (৩৯), পিতাঃ কিনারাম চাকমা, ঠিকানাঃ নোয়াওয়াড়া।

উক্ত তিনজনের মধ্যে বিমল ত্রিপুরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলে তাকে খাগড়াছড়ি হাসপাতাল হতে চট্টগ্রামের এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে আজ বিকাল ৩ ঘটিকার সময়ে বিমল ত্রিপুরাকে এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। অপর দুইজনকে খাগড়াছড়ি সদর হসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়।

সূত্র মোতাবেক, দীর্ঘদিন ধরে সেটেলার বাঙালি আব্দুল বশি, পিতাঃ তাজির উদ্দিন, ঠিকানাঃ ভুয়াছড়ি (জোরপূর্বক বসতি স্থাপন)’র সাথে থৈহ্লাঅং চৌধুরীর একটি জায়গার বিরোধ চলমান ছিল। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থৈহ্লাঅং চৌধুরী উক্ত জায়গায় আমবাগান করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সেটেলার বাঙালি আব্দুল বশি জায়গায়টি তার বলে অবৈধভাবে দাবি করতে থাকে। এক পর্যায়ে আদালতে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিস থেকে জায়গাটি তদন্তের জন্য আসলে সেটেলার বাঙালিদের বাধাদানের কারণে তা করা সম্ভবপর হয়নি।

পরবর্তীতে থৈহ্লাঅং চৌধুরী  দুইজন শ্রমিক অর্থাৎ বিমল ত্রিপুরা ও মিলন চাকমাকে নিয়ে গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার আমবাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে গেলে বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে  আব্দুল বশি, তার দুই ছেলে রশিদ ও নাসিরসহ আরো কয়েকজন সেটেলার বাঙালিকে নিয়ে তাদের বাগান পরিষ্কার করতে বাধা প্রদান করে। এতে সেখানে সেটেলার বাঙালিদের সাথে থৈহ্লাঅং চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সেটেলাররা তাদের উপর উপর্যুপরি দেশিয় ধারালো দা দিয়ে হামলা চালায়। এতে বিমল ত্রিপুরাকে মাথায় গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়।

পরে আশেপাশে গ্রামে বিষয়টি জানাজানি হলে উক্ত গ্রামের জুম্মরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এতে সেটেলার বাঙালিরা জুম্মদের আসার খবর পেলে তাৎক্ষনিকভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীরা উক্ত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের বয়ানে জান্ যায়, উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে শীঘ্রই তারা একটি মামলা দায়ের করবেন বলে জানা যায়।

More From Author

+ There are no comments

Add yours