এক মাসে সংখ্যালঘুদের উপর প্রায় অর্ধশতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনা: ঢাকার সমাবেশে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা

হিল ভয়েস, ১৩ মার্চ ২০২৬, ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসে দেশব্যাপী সংঘটিত প্রায় অর্ধশতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এদেশের আপামর ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আশা করেছিলেন যে, অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার সরকারি দল করেছিল তা নস্যাতে মহলবিশেষ তৎপর।

এহেন অশুভ তৎপরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে অনতিবিলম্বে এগিয়ে আসার জন্যে সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ এ মর্মে আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের দুয়েক দিন আগে থেকে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ভোটদানের নিমিত্তে যে ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল সে একই ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অব্যাহত রাখা হবে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সমন্বিত সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনাবলীর মধ্যে রয়েছে- হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, আদিবাসীদের বসতভিটি দখলের ঘটনা।

এসবের মধ্যে রয়েছে- ভোলার তজুমুদ্দীনে ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারী এক মহিলাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে গণধর্ষণ, চট্টগ্রামে আকাশ দাস, বগুড়ায় সুনীল বাঁশফোড়, কক্সবাজারে ব্যবসায়ী গণেশ পাল, বগুড়ায় শিক্ষক চয়ন রাজভর, যশোরে অরুণ অধিকারী, ময়মনিসংহের চাল ব্যবসায়ী সুশেন চন্দ্র সরকার, গাইবান্ধার সদর উপজেলার অমিতাভ চন্দ্র সুজনকে হত্যা এবং কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণপাড়ার কালী গাছতলা শিব মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরোহিতসহ চারজনকে জখম, বগুড়ার ধুনটে লক্ষ্মীমন্দিরে অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেয়া, সাতক্ষীরার আশাশুনির হামকোড়া কালীমন্দিরে ভাংচুর, ফেনীর পারিবারিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক ঘটনার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানান। তারা একই সাথে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ তাদের ৮ (আট) দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন শেষে কয়েক শতাধিক লোকের এক বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক বাসুদেব ধর। বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যমোর্চার যুগ্ম সমন্বয়ক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশনের মি. সুব্রত হাজরা, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুমন কুমার রায়, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের (এম.কে)

সাধারণ সম্পাদক ডা. এম কে রায়, অনুভব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র মণ্ডল, ঐক্য পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কৃষ্ণ দাস, মতুয়া মহাসংঘের নিউটন অধিকারী, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সজীব সরকার, সনাতন মহাসংঘের পিযূস দাস প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে।

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

More From Author