হিল ভয়েস, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: অপহরণের ১০ দিন পর খাগড়াছড়ি জেলাধীন পানছড়ি উপজেলার ১নং লোগাং ইউনিয়নের আওতাধীন মাছ্যছড়া নিবাসী অপহৃত হিমেল চাকমা যুবক্কে (৫৫) নামে এক সাধারণ গ্রামবাসীকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারী ইউপিডিএফ (প্রসিত) সন্ত্রাসীরা।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক দিন আগে অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, একটি গোপন আস্তানায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা মাছ্যছড়া এলাকাবাসীদের নিয়ে মিটিং করে। যেখানে এলাকার প্রতিটি বাড়ি থেকে একজন করে মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। উক্ত মিটিংয়ে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমাকে ভোট না দিলে অপহৃত হিমেল চাকমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর উক্ত এলাকার ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে ঘোড়া মার্কা ভোট পেয়েছিল ১২৩ টি। যার কারণে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা এখন মুক্তিপণের টাকা না দিলে হিমেল চাকমাকে ছেড়ে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এরপর স্থানীয় মুরুব্বীরা বলেন যে, অপহৃত হিমেল চাকমার পরিবার খুব অসহায়। তাদের পক্ষে এত টাকা দেওয়া অসম্ভব। তারপর ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ বাবদ ৫ লক্ষ থেকে ২.৫ (আড়াই) লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুরুব্বী জানান, হিমেল চাকমার পরিবার খুব অসহায় এবং তিনি বর্তমানেও অসুস্থ। তার পক্ষে ২.৫ লক্ষ টাকা দেওয়াও সম্ভব নয়। এখন তারা কী করবে কিছুই বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ ঘটিকার সময় লোগাং ইউনিয়নের মাছ্যছড়া পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ইউপিডিএফ’র (প্রসিত) সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের কমান্ডার আইসুখ, নিকোলাস ও কোয়েন এর নেতৃত্বে অপহৃত হন হিমেল চাকমা।
আরো উল্লেখ্য যে, অপহরণের পরের দিন অর্থাৎ গত ৮ ফেব্রুয়ারি লোগাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমাকে ডাকা হয় ইউপিডিএফ-এর তরফ থেকে। কিন্তু সেখানে হিমেল চাকমার অপহরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইউপিডিএফের নেতা কর্মীরা।