হিল ভয়েস, ২ এপ্রিল ২০২৬, খাগড়াছড়ি: আজ (২ এপ্রিল ২০২৬) খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন আলুটিলা পর্যটনের আশেপাশে জুম্মদের ১২টি দোকান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ স্থগিত করে ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু পর্যন্ত উক্ত দোকানগুলো আপাতত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বৈসুক উৎসবের পর ওই ১২টি দোকানের মালিক ৮ ব্যক্তিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সাথে দেখা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দোকানের মালিকরা হলেন- ১। সঞ্জিত ত্রিপুরা, স্ত্রী-কাঞ্চনমালা ত্রিপুরা, দোকান- কুলিংকর্ণার ১টি; ২। জনক ত্রিপুরা, স্ত্রী-অপলিকা ত্রিপুরা, দোকান- কুলিংকর্ণার ১টি; ৩। খোকা ত্রিপুরা, স্ত্রী-চন্দীর মালা ত্রিপুরা, দোকান-কুলিংকর্ণার ১টি; ৪। বিকাশ ত্রিপুরা, স্ত্রী-গিতা রানি ত্রিপুরা, দোকান-বি আর স্টোর ১টি; ৫। মতিলাল ত্রিপুরা, স্ত্রী-রেনুকা ত্রিপুরা।
দোকান-কুলিংকর্ণার ১টি; ৬। কনেশ্বর ত্রিপুরা, স্ত্রী-পনালিকা ত্রিপুরা, দোকান- কুলিংকর্ণার ১টি ও রেস্টুরেন্ট ১টি; ৭। জিতেন ত্রিপুরা, স্ত্রী-হ্যাপি ত্রিপুরা, দোকান-কুলিংকর্ণার; ৮। আজাই মারমা, স্ত্রী-খোইন্দা মারমা, দোকান- কুলিংকর্ণার ও অন্যান্য ৩টি।
দোকানের মালিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একটু স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে। তবে বৈসুক উৎসবের পর কী হবে তা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল ১ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে দোকানগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী জুম্ম দোকানদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে ১৫টির অধিক জুম্ম (ত্রিপুরা) পরিবার দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। তাদের সবারই অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পর্যটনের ভেতর দোকানের প্লট না পাওয়াতে পর্যটন সংলগ্ন আশেপাশের জায়গায় খুচরা দোকান দিয়ে তাদের অনেকে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার ভরণপোষণ করে থাকেন। বলা যায় ঐ দোকানই তাদের শেষ অবলম্বন। গতকাল জেলা প্রশাসন কর্তৃক দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়ান দোকান মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
+ There are no comments
Add yours