সুবলঙে সেনাবাহিনীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে সংস্কারপন্থীদের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি

0
1608

হিল ভয়েস, ২১ জুন ২০২০, রাঙ্গামাটি: বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সংস্কারপন্থী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাঙ্গামাটি জেলাধীন বরকল উপজেলার সুবলং এলাকার আশেপাশের জুম্মদের হয়রানি, মারধর, অপহরণ, হুমকি ও চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সুবলং সেনাক্যাম্পের লাগোয়া সুবলং বাজারে সশস্ত্র অবস্থায় প্রকাশ্যে অবস্থান করেই সংস্কারপন্থীরা অবাধে এই কর্মকান্ডে চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২০ জুন ২০২০ শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ২:৩০ টার দিকে পূর্ণাঙ্গ চাকমার নেতৃত্বে সংস্কারপন্থীদের একটি দল পার্শ্ববর্তী ২নং বরকল ইউনিয়নের বিল্লছড়া গ্রামের বাসিন্দা ৬ নিরীহ জুম্মকে নির্দিষ্ট সময়ে চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সুবলং বাজারে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে হয়রানি করে।

ভুক্তভোগী ৬ জুম্ম গ্রামবাসীর পরিচয় হল- ১. সুপ্রিয় চাকমা (৩২), পিতা-জগৎময় চাকমা; ২. সৌরভ চাকমা (১৮), পিতা-ধন চাকমা; ৩. সৌখিন চাকমা (১৪), পিতা-ধন চাকমা; ৪. প্রিয় রঞ্জন চাকমা (৪৮), পিতা-মৃত বলরাম চাকমা; ৫. চিত্তি সবো চাকমা (২২), পিতা- বিপিন কুমার চাকমা; ৬. পল্লব চাকমা (২২), পিতা-উজ্জ্বল চাকমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত ৬ ব্যক্তি ঐ সময় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিজেদের গ্রামের সুপ্রিয় চাকমা (৩২), পিতা-জগতময় চাকমা নামের এক ব্যক্তিকে দেখার পর ফেরার পথে সুবলং বাজারে পৌঁছলে সংস্কারপন্থীদের কর্তৃক হয়রানির শিকার হন।

জানা যায় যে, সেনা-মদদপুষ্ট সংস্কারপন্থীরা মাসখানেক আগে বিল্লছড়া গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ১৬,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু গ্রামবাসীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উক্ত ৬ গ্রামবাসীদের আটক করে।

জানা গেছে, দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার এক পর্যায়ে সুবলং বাজার সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ঘটনাস্থলে এসে গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিতে বললে সংস্কারপন্থীরা উক্ত ৬ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়। তবে সংস্কারপন্থীরা গ্রামবাসীদের ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে ছিল না জানা যায়।

এর কিছুক্ষণ পরই, সংস্কারপন্থীরা বিল্লছড়া গ্রামের কার্বারি মোহন লাল চাকমা (৫৫)-কে ফোন করে বলে যে, যদি আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্রামবাসীরা ১৬,০০০ টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আরো ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সংস্কারপন্থী সন্ত্রাসীরা বরকল উপজেলার সরকারী-বেসরকারী সকল চাকরিজীবীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া ১২ মে ২০২০ সুবলং সেনা ক্যাম্পের ছত্রছায়ায় সংস্কারপন্থী সন্ত্রাসী কর্তৃক সুবলং বাজারে জুয়েল চাকমা নামে এক নিরীহ গ্রামবাসী অমানবিকভাবে মারধর; ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সুগুরিপাতা গ্রামের বাসিন্দা দয়াল মুনি চাকমাকে অপহরণ ও তার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়; ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ দেয়ানচর গ্রামের বাসিন্দা সাধন বিকাশ চাকমাক নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ২০১৯ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা সেনা জোনের একদল সেনাসদস্য নিরাপত্তা এসকর্ট দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চাকমার নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্য বিশিষ্ট সংস্কারপন্থীদের একটি সশস্ত্র গ্রুপ দীঘিনালা থেকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বরকল উপজেলার সুবলং বাজারে নিয়ে আসে।

এরপর থেকেই সুবলং বাজার সেনা ক্যাম্পের কর্তৃপক্ষ ঐ সংস্কারপন্থী সশস্ত্র গ্রুপটিকে নিরাপত্তা ও আশ্রয় দিয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় তারা সুবলং বাজারে চেক পোষ্ট বসায়। মালবাহী ও যাত্রীবাহী সকল প্রকার জলযান তারা অবাধে চেক করতে থাকে এবং নিরীহ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রামবাসীদের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা ধার্য করে আদায় করতে থাকে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গ্রামে গ্রামে খবর দিয়ে গ্রামভিত্তিক গণহারে চাঁদা আদায় করতে থাকে। সংস্কারপন্থীদের হয়রানিতে সুবলং বাজার দিয়ে যাতায়াত করতে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।