সাতদিনের আল্টিমেটাম, অন্যথায় মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি

0
859

হিল ভয়েস, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, টাঙ্গাইল: বাসন্তী রেমার কলাবাগান কর্তনের সুবিচারসহ মধুপুর গড়াঞ্চলে ইকোপার্ক,ইকো ট্যুরিজম, রিজার্ভ ফরেস্ট ও সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধ ও সমাধান চেয়ে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের আদিবাসী গারো সম্প্রদায়।

অন্যথায় মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার মধুপরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বিক্ষুব্ধ গারো জনগোষ্ঠী হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক একটি বিক্ষোভ মিছিল গারো বাজার (ভুটিয়া বাজার) মোড় থেকে সকাল ১০:৩০ টায় শুরু হয়ে দোখলা রেঞ্জ অফিস প্রদক্ষিণ করে দোখলা ফরেস্ট অফিস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেয় বিশেষ কারণে আজকের দিনটির পরিবর্তে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মিমাংসার জন্য তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করে।

সমাবেশে ছাত্রনেতা জন যেত্রার সঞ্চালনায় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সহ-সভাপতি রিচার্ড বিপ্লব সিমসাং-এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নেতা অজয় মৃ, নারী নেত্রী জষ্টিনা নকরেক, হেলিন যেত্রা, হেরিৎ সিমসাং, ১১ নং শোলাকুড়ি ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, নিউটন মাজি, গারো অভিভাবক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে আদিবাসী নেতা অজয় এ. মৃ বলেন, দুঃখ হয় ১৯৬২ সাল থেকে আমাদের ভূমি ও জীবনজীবিকার অধিকারের জন্য এই দোখলাতে আমরা সংগ্রাম করে আসছি। আজোও আমরা দাবি করে আসছি, এই অধিকার আমাদের আছে। এ আদিবাসী নেতা প্রশ্ন রাখেন, বন বিভাগ কত সালে এসেছে? ১৯২৭ সালে হয়েছে বন আইন কিন্তু আদিবাসীরা শত শত বছর আগে থেকেই এখানে বসবাস করে আসছে। তাহলে কে আগে বন বিভাগ আগে না আদিবাসীরা আগে এসেছে এই অঞ্চলে? তাহলে কেন আমাদের উপর এত অত্যাচার করছেন?

তিনি আরো বলেন, বনের ভেতর শত শত জায়গা দখল করে যে অ-আদিবাসী বসবাস করছে তাদের গাছ না কেটে তাদের জমি দখল না করে কেন আদিবাসীদের গাছ কাটা হয় কেন তাদের জমি দখল করা হচ্ছে ?

১১ নং শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বিক্ষোভ সমাবেশের সাথে একাত্বতা পোষণ করে বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের আগে আপনারা কোনো কিছু করবেন না। ২৪ সেপ্টেম্বর মিমাংসা করার চেষ্টা করা হবে যদি মিমাংসা না হয় তবে আপনারা যে কর্মসূচি দেবেন তার সাথে আমরা থাকবো এবং সহযোগিতা করবো।

সমাবেশে আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে বাসন্তী রেমার কলাবাগান কর্তনের মিমাংসাসহ, মধুপুর গড়াঞ্চলে ইকোপার্ক-ইকো ট্যুরিজম, রিজার্ভ ফরেস্ট ও সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র বন্ধের সুষ্ঠু সমাধানে না হলে টাংগাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দেন।