সাজেকে বিজিবি কর্তৃক জুম্মদের বাড়ি নির্মাণে বাধা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

0
834

হিল ভয়েস, ১৪ নভেম্বর ২০২২, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক স্থানীয় জুম্ম গ্রামবাসীদের বাড়ি নির্মাণে বাধা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সাজেক এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল ১৩ নভেম্বর ২০২২ সাজেক সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন উদয়পুর গ্রামের চৌমুহনী এলাকায় ব্যানারে “নিজের জায়গায় বাড়ি করতে বিজিবি’র বাধা কেন? প্রশাসনের জবাব চাই” লিখে এলাকার নারী-পুরুষরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

এসময় এলাকাবাসী মানববন্ধনে প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডে আরো উল্লেখ করেন- ‘আইন দেখিয়ে সরল জুম্মদের জমি কেড়ে নিও না’, ‘আমার জমি, আমার জীবন’, ‘আমরা সাজেকবাসী, সাজেকে বসবাস করতে চাই’।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ নভেম্বর ২০২২ বিজিবি’র ২৭ ব্যাটালিয়নের কম্যান্ডিং অফিসার (সিও) লেঃ কর্নেল মোঃ শরীফুল আবেদ (এসজিপি) ও বাঘাইছড়ি ইউএনও সাজেকে এসে জুম্মদের বাড়ি না তুলতে নির্দেশ দিয়ে যান।

এর পরদিন ১৩ নভেম্বর ২০২২ সকাল ৯:০০ টার দিকে বিজিবি’র একদল সদস্য এসে বড় কমলাক পাড়া গ্রামের ৪ গ্রামবাসীর বাড়ি ভেঙে দিয়ে যায় এবং ২টি বাড়ি নির্মাণে বাধা দিয়ে বাড়ির খুটি ও গাছ-বাঁশগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

বড় কমলাকে ভাঙচুরের শিকার বাড়িগুলো হল- (১) ত্রিশংকর চাকমা, পীং-মৃত গোয়াচন্দ্র চাকমা, (২) মহোলাল চাকমা, পীং-মৃত প্রতিরঞ্জন চাকমা, (৩) ইন্দু কুমার চাকমা, পীং- কালা মরত্তো চাকমা ও (৪) ভোজধন চাকমা, পীং-জরিপ্যা চাকমা।

এছাড়া বড় কমলাক গ্রামে বাধা প্রদানের শিকার বাড়িগুলো হল- (১) সমর বিকাশ চাকমা, পীং-শান্তি কুমার চাকমা ও সুবল চাকমা, পীং-মৃত কালি কুমার চাকমা।

অপরদিকে বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ উদয়পুর গ্রামের (১) রাঙাচান চাকমা, পীং-আদি গচ্যে চাকমা ও (২) বুদ্ধি রঞ্জন চাকমা, পীং-গোপাল কৃষ্ণ চাকমার জায়গা দখল করে এবং একই গ্রামের (১) বুদ্ধ রঞ্জন চাকমা, পীং-রমনী মোহন চাকমা ও (২) সুপায়ন চাকমা, পীং-কমল লোচন চাকমা’কে বাড়ি নির্মাণ করতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সূর্যসেন চাকমা বলেন, “বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ১৬৮নং কংলাক মৌজা ও ১৬৭নং রুইলুই মৌজার রাস্তার দুই ধারে আমাদের জুম্মদের জায়গাজমিগুলো বিজিবি ও সেনাবাহিনী কর্তৃক অধিগ্রহণ করার ষড়যন্ত্র চলছে।”

তিনি বলেন, “গত বছর ২০২১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ২১০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে ধান্যজমি, কলা বাগান, সেগুন বাগান, হলুদ খেতসহ বিভিন্ন ফলজ বাগান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। রাস্তার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে জুম্মদের জায়গাজমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। রুইলুইয়ের পার্শ্ববর্তী সিজকছড়ায় বাড়িঘর করতে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এবং নিজ ভোগদখলীয় জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করতে পারছি না, তারা বাধা দিচ্ছে। প্রশাসন সকাল ৯:০০ টার দিকে ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে বাড়ির খুটি, খাট, গাছ, বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্যাম্পে নিয়ে যায়।”

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, “সাজেকের রুইলুই এলাকায় উন্নয়নের নামে, পর্যটনের নামে পতিতাবৃত্তি হচ্ছে।”