লংগদুতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক এক আদিবাসীর ভোগদখলীয় জমি বেদখলের চেষ্টা

0
599

হিল ভয়েস, ১২ নভেম্বর ২০২৩, লংগদু : রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলাধীন ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত রাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুভাস চাকমার ভোগদখলীয় জায়গা সেটেলার বাঙালি কর্তৃক বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১০টায় ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়নের সেটেলার বাঙালি ১) মোঃ মঞ্জুরুল হক মিলন, পিতা- অজ্ঞাত, প্রাক্তন মেম্বার, ৮নং ওয়ার্ড ২) মোঃ শহীদ মিয়া, পিতা- অজ্ঞাত, প্রাক্তন মেম্বার, ৯নং ওয়ার্ড ও ৩) মোঃ নাজিম উদ্দিন, পিতা- মৃত নিজাম উদ্দিন, সাং- রসুলপুর এর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল জঙ্গল পরিষ্কার করতে শুরু করে।

বিষয়টি ভূমির মালিক সুভাষ চাকমা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এসে জঙ্গল পরিষ্কার না করার জন্য বাধা প্রদান করে। এতে সেটেলার বাঙালিরা কোনো বাধা না শুনে উল্টো তাকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে এবং জায়গাটি জনৈক বকুল বিকাশ চাকমার নিকট থেকে ক্রয় করেছে বলে তারা দাবি করে।

বিষয়টি পুরো পাহাড়ি গ্রামের মধ্যে জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রামবাসিরা খবর নেওয়ার জন্য সেখানে গেলে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরে ভূমির মালিক সুভাষ চাকমা পরিস্থিতির অবস্থা খারাপ দেখে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও তেমাথা বিজিবি ক্যাম্পে আপত্তি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি সদস্যরা জঙ্গল পরিষ্কার করার জায়গাটিতে এসে বিষয়টির সত্যতা দেখতে পায়। বিজিবি সদস্যরা আসার পর উভয় পক্ষের লোকজন যার যার অবস্থান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি আশংকামুক্ত হয় এবং বিজিবি সদস্যরা নেতৃত্বদানকারী তিনজন সেটেলারকে ৩৭ বিজিবি, রাজনগর জোন, গুলশাখালীতে দুপুর ১২টার মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যায়।

তবে জোন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কী বলেছে তা জানা যায়নি। বিজিবির সদস্যরা উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে হয়তো পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো বলে গ্রামবাসিরা জানান।