রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক নাফ নদী থেকে দুই আদিবাসী যুবক অপহরণ

0
97
ছবি : বামে ছৈলা মং চাকমা ও ডানে ক্যামংথোএ তঞ্চঙ্গ্যা

হিল ভয়েস, ১৯ মে ২০২৪, বিশেষ প্রতিবেদক: কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন এলাকার নাফ নদী থেকে অস্ত্রের মুখে দুই আদিবাসী যুবক অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপহৃতদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণের দাবি, রোহিঙ্গা মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরাই উক্ত দুই যুবককে অপহরণ করেছে।

ভুক্তভোগী দুই যুবকের পরিচয়- (১) ছৈলা মং চাকমা, ৩০ বছর, পীং-উছা মং চাকমা, গ্রাম-লাম্বা ঘোনা, ৪নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন এবং (২) ক্যামংথোএ তঞ্চঙ্গ্যা, ১৯ বছর, পীং-মংথাইংছিং তঞ্চঙ্গ্যা, গ্রাম-ঐ।

গতকাল (১৭ মে) অপহরণের শিকার ছৈলামং চাকমার মা ছুছিং ছা তঞ্চঙ্গ্যা নিজে বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং অপহৃতদের উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন। একইভাবে তিনি টেকনাফের বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিও লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ-এর নিকটও একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আদিবাসী অধিকারকর্মী বলেছেন, অপহৃতরা এখনো জীবিত রয়েছেন এবং অপহরণকারীরা তাদেরকে মিয়ানমারে আটকাবস্থায় রেখেছেন। তার মতে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যদি অপহরণকারী রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যদের উপর চাপ প্রয়োগ করে তাহলে অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব।

টেকনাফের বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিও লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনার চেষ্টা চলছে।

ছুছিং ছা তঞ্চঙ্গ্যা কর্তৃক টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৪ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ছৈলা মং চাকমা ও ক্যামংথোএ তঞ্চঙ্গ্যা একসঙ্গে টেকনাফের হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের হাউস দ্বীপের পাশে ৫নং গেইটের নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গেলে তারা অপহরণের শিকার হন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আমার ছেলে ও প্রতিবেশী কাঁকড়া আহরণ শেষে সময়মত বাড়িতে ফিরে না আসায় আমি সহ পরিবারের লোকজন সবাই খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। খোঁজাখুঁজি কালে উক্ত তারিখ রাত আনুমানিক ৭ টার সময় লোকজন হতে জানতে পারলাম, মিয়ানমার নাগরিক আরসা নামক সংগঠনের সদস্যরা ছেলে ছৈলামং চাকমা ও ক্যামংথোএ তঞ্চঙ্গ্যা উভয়কে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

উক্ত দুই যুবককে কেন অপহরণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে, একটি সূত্রের ধারণা, আরাকান আর্মির সদস্য মনে করে আরসা’র সদস্যরা দুই যুবককে অপহরণ করতে পারে।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।