রুমায় চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের ১ সদস্য গুলিবিদ্ধ

0
278

হিল ভয়েস, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বান্দরবান: বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা সদরের জায়ন পাড়াতে চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠী আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের এক সশস্ত্র সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রুমা সদরের জায়ন পাড়াতে উক্ত ঘটনাটি ঘটে।

হিল ভয়েসের বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, আজকে ছিল রুমা বাজারের হাটের দিন। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বম পার্টি নামে খ্যাত কেএনএফ সন্ত্রাসীদের ৬ জন সশস্ত্র সদস্য রুমা বাজারে চাঁদা নিতে আসে এবং বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে চাঁদাও আদায় করে নেয় তারা।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর কাছে এই খবর পৌঁছালে তাদেরকে ধরার জন্য সেনাবাহিনীর একটি দল রুমা বাজার এলাকা ঘেরাও করে। পরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেনাবাহিনীর উপর গুলি চালায়। একপর্যায়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা জায়ন পাড়ার পার্শ্ববর্তী রাস্তায় পৌঁছলে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এতে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের ১ জন সশস্ত্র সদস্যর গুলি লেগে আহত হন এবং বাকিরা পালাতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি।

আহত কেএনএফ সশস্ত্র সদস্যটি হলেন, বয়রামসাঙ বম (২২), পীং: জারেমলাল বম। তবে আহত কেএনএফ-এর সশস্ত্র সদস্য বয়রামসাঙ বমকে আহত অবস্থায় সেনাবাহিনীরা রুমা জোনে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়।

এরপর আনুমানিক ৩:৪০ টার দিকে আহত কেএনএফ সদস্যকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডক্টর উথান কিউ মার্মা রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় হাসপাতালে রেফার করেন এবং ৬:২০ টার দিকে আহত কেএনএফ সদস্যকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে পুলিশের এএসআই শহীদুলসহ ৪ জন এবং ৫ ইবি এর একটি সি টাইপ স্কট পিকআপ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে গমন করেন বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে যে, বর্তমানে রুমা ও রোয়াংছড়ি এলাকায় কেএনএফ সর্ত্রাসীদের তিনটি গ্রুপ অবস্থান করে৷ তারা এলাকায় ঘুরাফিরা করে থাকে৷ কেএনএফ ও সেনাবাহিনীর উৎপীড়নে রুমা ও রোয়াংছড়ির বম পাড়া থেকে গ্রামবাসীরা উচ্ছেদ হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা এ বছর জুম চাষও করতে পারেনি৷

ফলে বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্য সংকট চলছে৷ কেএনএফ সন্ত্রাসীদের মধ্যেও চরম খাদ্য সংকট চলছে৷ এর ফলে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা বাজারসহ পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে পাড়াবাসীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করছে এবং বিনামূল্যে পাড়াবাসীদের হাঁস, মুরগি জোর করে ছিনিয়ে নিচ্ছে৷

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নস্যাত্‌ করা এবং জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর মদদে কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলাপমেন্ট অর্গানাইজেন (কেএনডিও) নামে নাথান বম ও ভাঙচুনলিয়ান বমের নেতৃত্বে সংগঠনটি গঠিত হয়।

২০১৬ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কেএনএফ রাখা হয়। এরপর সেনাবাহিনী কেএনএফ’কে জেএসএসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। ২০২০ সালে কেএনএফ অর্থের বিনিময়ে জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া নামে এক ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠী কেএনএফের গোপন আস্তানায় আশ্রয় ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এভাবে একপর্যায়ে কেএনএফ সেনাবাহিনীর জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।