রাঙ্গামাটির বালুখালী ও জীবতলীতে সেনা অভিযান অব্যাহত, বাড়ি তল্লাসী

0
391
ছবি : প্রতিকী

হিল ভয়েস, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ও জীবতলী ইউনিয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক টহল অভিযান, তালা ভেঙ্গে বাড়ি তল্লাসী ও বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ করে আইডি কার্ড নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ বরকল উপজেলাধীন সুবলং সেনা ক্যাম্প হতে জনৈক সুবেদারের নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি সেনা টহল দল বেলা ১১টার সময় ট্রলার যোগে বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের নিকটবর্তী (ভাঙ্গা বিল্ডিং)- এ এসে ৩/৪ ঘন্টা অবস্থানের পর বিকালের দিকে ক্যাম্পে ফিরে যায়।

অপরদিকে, আজ (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১১.৩০ টার সময়ে আবার সুবলং সেনা ক্যাম্প হতে জনৈক সুবেদারের নেতৃত্বে ২২ জনের একটি সেনা টহল দল ঐ একই স্থানে (ভাঙা বিল্ডিং) -এ এসে অবস্থান করে। পরে সেখান থেকে ১০/১২ জনের একটি সেনাদল হ্রদে ঘোরাঘুরি করে বিকাল তিনটার দিকে ক্যাম্পে ফিরে যায় বলে জানা যায়।

এদিকে, একই দিনে (১০ ডিসেম্বর) মরিচ্যাবিল সেনা ক্যাম্প ও জীবতলী ইউনিয়নের গবঘোনা ক্যাম্প হতে যৌথভাবে জনৈক ক্যপ্টেন ও সুবেদারের নেতৃত্বে ৩৫/৪০ জনের একটি সেনাবাহিনীর টহল দল সকাল ৯টার সময়ে বালুখালী ইউনিয়নের বালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে অবস্থান করে।

অন্যদিকে, আজ সকাল ৯ টার সময়ে বালুখালী ইউনিয়নের পাংখোয়া পাড়া সেনা ক্যাম্প হতে সুবেদার মোঃ পারভেজের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি সেনা টহল দল দুত্তাং পাড়ার জয়পুর শাখা বন বিহারের আসে। সেখান থেকে গ্রাম কার্বারি জীবন্তরকে খবর পাঠায়।

জীবন্তর কার্বারি সেখানে পৌঁছার পর তার থেকে সেনাসদস্যরা ট্রাক্টরের মালিকে কে জানতে চায়। উল্লেখ্য, সেখানে দুলিয়া চাকমা ও কিরণ ময় চাকমা নামে দুইজন মাস খানেক আগে থেকে ট্রাক্টর দিয়ে ধান্য জমির মাটি পরিষ্কার ও কেটে সমান করছে।

জবাবে জীবন্তর কার্বারি বলেন, বালুখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার বিজয় রঞ্জন চাকমা ভাড়া করে এনে উক্ত দুই জনকে দিয়ে জমি পরিষ্কার ও সমান করছে। পরে, সেনা টহল দলটি সেখান থেকে বাদল ছড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

যাওয়ার পথে দুত্তাং পাড়ার বাসিন্দা কিরণ ময় চাকমার তালা বদ্ধ বাড়িটি দেখে আশা পূর্ণ চাকমা নামে ঐ পাড়ার একজনকে জিজ্ঞেস করে বাড়িটি তালা বদ্ধ কেন? সাথে সাথে তালাটি ভেঙে সেনাসদস্যরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ির আসবাবপত্র ও বইপত্র তছনছ করে দেয় এবং কিরণ ময় চাকমা আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যায় বলে জানা যায়।

আরো জানা যায়, ক্যাম্পের নিকটবর্তী স্থানে ১২৮ নং বসন্ত মৌজার হেডম্যান শিয়াল জল পাংখোয়ার একটি কলা বাগান রয়েছে। ক্যাম্পের সেনারা মালিককে না জানিয়ে এবং টাকা না দিয়ে ইচ্ছামত কলাবাগানের কলাগুলি কেটে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে সেনারা হুমকি দেয়, বলা যায় বর্তমানে কলাবাগানটি সেনাদের দখলে।