মধুপুরে আদিবাসীদের জমি দখল করে কৃত্রিম লেক খননের প্রতিবাদ আদিবাসী সংগঠনসমূহের

0
343

হিল ভয়েস, ১১ নভেম্বর ২০২১, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে আদিবাসীদের ফসলী জমি দখল করে কৃত্রিম লেক খনন পরিকল্পনার প্রতিবাদ করেছে আদিবাসী সংগঠনসমূহ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় মধুপুরস্থ জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ (জিএমএডিসি) কার্যালয়ে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের এই প্রতিবাদ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জন যেত্রা এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লিয়াং রিছিল। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে জিএমএডিসির সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ, মিসেস মেবুল দারু, গৌরাঙ্গ বর্মন, হেরিদ সিমসাং, প্রবিণ চিসিম, নেরে নবাট দালবৎ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা মধুপুরে বসবাসকারী আদিবাসী জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে জানতে পারলাম যে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আদিবাসী অধ্যুষিত চুনিয়া, পেগামারী, পীরগাছা, সাইনামারী, ভূটিয়া ও থানারবাইদ গ্রামের পার্শ্বেই ১১নং শোলাকুড়ী ইউনিয়নের পীরগাছা মৌজার আমতলী নামক বাইদে দেশী—বিদেশী পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে আদিবাসীদের তিন ফসলী আবাদী জমিতে বন বিভাগ কর্তৃক কৃত্রিম লেইক খনন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা আমাদের নিরীহ আদিবাসীদের জীবন—জীবিকা ও সংস্কৃতির ওপর মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।

এছাড়াও লেকের পাশে বসবাসকারী আদিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবসহ মধুপুর বনের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বন ও পরিবেশের উপর স্থায়ীভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, বন বিভাগের এমন আত্মঘাতী পরিকল্পনার সাথে আমরা সম্পূর্ণরূপে দ্বিমত পোষণ করছি এবং উল্লিখিত স্থানে আমাদের স্বত্ব দখলীয় এবং আরওআর রেকর্ডভুক্ত জমিতে লেক খনন করা হলে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এলাকার সকল আদিবাসীদের সহযোগিতায় তা প্রতিহত করার অঙ্গীকার করছি।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  প্রস্তাবিত এ লেক খননের জন্যে বরাদ্দকৃত বাজেট অন্যত্র বাস্তবায়িত করা হোক। যেমন— রসুলপুর এলাকায় বা অন্য এলাকায় যেখানে বন বিভাগের দখলিকৃত জমি আছে, যা আদিবাসীদের জীবন—জীবিকাকে ক্ষতি করবে না।

আদিবাসীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বন বিভাগ যদি লেক খনন প্রকল্প থেকে সরে না যায়, তাহলে সেটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, দেশের সংবিধান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারের বরখেলাপ হবে। এমনকি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও লঙ্ঘন হবে বলে বক্তারা ব্যক্ত করেন।