বালুখালিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিহার ঘেরাও, জিজ্ঞাসাবাদ, দোকান তল্লাসী

0
1459

হিল ভয়েস, ৪ আগস্ট ২০২০, রাঙ্গামাটি: রাজমনি পাড়া ক্যাম্প ও সুবলং ক্যাম্পের এক যৌথ সেনাদল রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালির কাইন্দা এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে এক বৌদ্ধ বিহার ঘেরাও করে পূর্ণার্থীদের ডেকে নিয়ে হয়রানিমূলক জিজ্ঞাসাবাদ এবং এক জুম্মর দোকান তল্লাসী করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (৩ জুলাই ২০২০) সকাল প্রায় ১০:৩০ টার দিকে বালুখালির রাজমনি পাড়া সেনা ক্যাম্পের মো: সোলেমানের নেতৃত্বে একটি সেনাদল এবং সুবলং বাজার সেনা ক্যাম্পের জনৈক কম্যান্ডারের নেতৃত্বে আরেকটি দল কাইন্দা ব্রিজের দোকানে এসে মিলিত হয়।

এরপর আবার সেনাসদস্যরা দুটি দলে ভাগ হয়ে একটি দল ব্রিজের দোকানগুলোতে তল্লাসী চালায় এবং অপর দলটি কাইন্দা দোজরি পাড়া জয়দ্বীপ বৌদ্ধ বিহারের দিকে যায়। ব্রিজের দোকানের মধ্যে বিশেষ করে মঙ্গল রঞ্জন চাকমার দোকানে তল্লাসীর নামে ক্যাশ বাক্সসহ জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়।

অপরদিকে বিহারের দিকে যাওয়া সেনাদলটি আষাঢ়ি পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রায় ৩০০-৪০০ লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কাইন্দ্যা দোজরী পাড়া জয়দ্বীপ বৌদ্ধ বিহার এলাকাটি ঘেরাও করে। এসময় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মীয় দেশনা দিচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

এসময় সেনা সদস্যরা অনুষ্ঠান স্থল থেকে নিম্নোক্ত চার ব্যক্তিকে ব্রিজের পার্শ্ববর্তী বসন্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়:
১. সঞ্চয় চাকমা(৫৮), পীং-মৃত গুলমূয়া চাকমা, নির্বাচিত সদস্য, ৪নং ওয়ার্ড বালুখালী ইউনিয়ন;
২. রহিম বাদশা তঞ্চঙ্গ্যা (৬২), পীং-মৃত পালক্যা তঞ্চঙ্গ্যা, গ্রাম-ডাইনে কাইন্দ্যা তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া, তিনি একজন কার্বারি;
৩. গান্ধী লাল কার্বারী (৫৫), পীং-মৃত নিশি কুমার চাকমা, গ্রাম- দোজরী পাড়া;
৪. প্রেম লাল কার্বারী (৪৫),পীং-মৃত অভিমূন্য কার্বারী, গ্রাম-এগজ্যা ছড়ি।

এসময় সেনা দলের কম্যান্ডার এক গ্রামবাসীকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছ্যুক) জিজ্ঞেস করে যে, ‘আজকে এখানে জেএসএসের মিটিং হওয়ার কথা, সন্ত্রাসীদের চাঁদা দেওয়া হয়েছে কিনা না? জেএসএসের সন্ত্রাসীরা এই এলাকায় আছে কিনা?’

সেনা কম্যান্ডারের জবাবে, উক্ত গ্রামবাসী বলেন, ‘চাঁদা দেওয়া হয়েছে সুবলং বাজরে অবস্থানরত সংস্কারপন্থীদের, সেটা তো আপনাদের অজানা নয়। গত মে ২০২০ মাসের প্রথম সপ্তাহে সংস্কারপন্থী কম্যান্ডার পূর্ণাঙ্গ চাকমা গ্রামবাসীদের ফোন দিয়ে, আমাদের কাইন্দ্যা এলাকায় যতগুলি পাড়া রয়েছে, সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের কাছে গচ্ছিত দিতে হবে- এরকম নির্দেশ দেয়। জুন মাসের শেষের দিকে গ্রামবাসীরা সুবলং বাজারে গিয়ে সংস্কারপন্থী কম্যান্ডার আর্তিক চাকমাকে নগদ ৭২ হাজার পাঁচ শত টাকা বুঝিয়ে দিয়ে, বাকী টাকা আর দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে এসেছে।’

এরপর সেনা কম্যান্ডার কিছু না বলে, আারেক তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করে, তিনি চাঁদা দিয়েছেন কিনা।
সেনা কম্যান্ডারের জবাবে উক্ত তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী বলেন যে, ‘স্যার, আপনারা সন্ত্রাসী খুঁজেন, চাঁদাবাজদের খুজেন, সে বিষয়ে কি কিছু বলতে পারি?’ তিনি আরও বলেন, ‘স্যার, বলা যাবে সুবলং বাজারে আপনাদের সেনাবাহিনীর সামনে সংস্কারপন্থীরা নিরীহ জনগণের কাছ থেকে দিন দুপুরে যত্রতত্র চাঁদা উশুল করে থাকে সেটা একটা বিষয়, অন্যদিকে জীবতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ায় নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদা উশুল করে থাকে, প্রতিবোটে দুই হাজার করে দিতে হয়, সেগুলি কি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির আওতায় পড়ে না?’

এরপর সেনাবাহিনী কোন জবাব দেয়নি। মনে হয় সংস্কারপন্থীদের চাঁদা উত্তোলনের খবরে তারা বরং খুশি হয়েছেন। পরে আর কাউকে কিছু না বলে দুপুর ২:০০টার দিকে সেনা সদস্যরা নিজ নিজ ক্যম্পে চলে যায় বলে জানা গেছে।