বাংলাদেশের আদিবাসীরা বাস্তুচ্যুতির সম্মুখীন: জেনেভায় এমরিপের সভায় আইপিডিএফএফ’র প্রতিনিধি

0
261

হিল ভয়েস, ১৯ জুলাই ২০২৩, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান জাতিসংঘের এক্সপার্ট ম্যাকানিজম অন দ্য রাইট্স অব ইন্ডিজেনাস পিপল্স (এমরিপ) এর ৩য় দিনের সভায় বাংলাদেশের ইন্ডিজেনাস পিপল্স ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর্স ফোরাম (আইপিডিএফএফ) এর প্রতিনিধি মিথুন কুমার উরাও বলেছেন, বাংলাদেশে পরিবেশগত অবনতি ঘটিয়ে ব্যাপক অনুপযোগী ও শোষণমূলক ‘উন্নয়ন’ এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, জীবিকা হারানো, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য ও অস্বাস্থ্য ডেকে এনে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীসমূহকে ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যগত ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুতির সম্মুখীন করা হচ্ছে।

মিথুন কুমার উরাও তার বক্তব্য উপস্থাপনের সময় সমতল ভূমির আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবির কথাও তুলে ধরেন।

গতকাল ১৮ জুলাই ২০২৩, জেনেভায় অনুষ্ঠিত এমরিপের ১৬শ অধিবেশনের ৩য় দিনের সভায় এজেন্ডা আইটেম ৫: ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ উইথ দি এক্সপার্ট ম্যাকানিজম অন দ্যা রাইট টু ডেভেলপমেন্ট এর উপর বিবৃতি উপস্থাপন করার সময় বাংলাদেশের আদিবাসীদের বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন আইপিডিএফএফ’র প্রতিনিধি এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘের এমরিপের এই ১৬শ অধিবেশনটি শুরু হয় গত ১৭ জুলাই এবং তা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায়।

আইপিডিএফএফ’র প্রতিনিধি মিথুন কুমার উরাও বলেন, যদিও সরকারি নীতিমালাসমূহ উন্নয়ন ও আদিবাসীদের অধিকারের জন্য বিশেষ করে স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ ও মীমাংসাকে উপজীব্য হিসেবে গ্রহণ করে। সীমিত নীতিমালা মনোযোগ এবং আদিবাসীদের কার্যকর ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের জন্য দূর্বল মেকানিজম নিয়ে উক্ত নীতিমালাসমূহের দূর্বল বাস্তবায়ন -স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতির ব্যবহারে ব্যর্থতা- ক্রমবর্ধমানভাবে অধিকারহরণ ও আর্থ-সামাজিক প্রান্তিকীকরণ ডেকে আনছে এবং এগুলি উন্নয়নের অধিকারের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (স্যাড) নামে সমতলভূমির আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি বিভাগ ছিল। সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন বিভাগের জন্য একজন আদিবাসী কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই স্যাডকে ভেঙে দেয় এবং ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের জন্য ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট নামে একটি উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প চালু করা হয়, এটাই সমতলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ মনোযোগ।

তিনি বলেন, (ক) আমরা, কেন স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স ডিভিশন ভেঙে দেয়া হচ্ছে তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাওয়া এবং যদি আদিবাসীদের উন্নয়নের অধিকারের উদ্দেশ্যসমূহ বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন নীতিমালায় সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে একটি আলাদা আদিবাসী বিভাগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করার জন্য এমরিপকে অনুরোধ জানাই; (খ) এছাড়া আমরা সমতল ভূমির আদিবাসীদের জন্য একটি আলাদা ভূমি কমিশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি করার জন্য এমরিপকে অনুরোধ জানাই।