জুরাছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২ ছাত্রকে আটক ও হয়রানি, পরে মুক্তি

0
349
ছবি : প্রতিকী

হিল ভয়েস, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলাধীন জুরাছড়ি উপজেলা এলাকার বাসিন্দা ও রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের ২ জন জুম্ম ছাত্র সেনাবাহিনী কর্তৃক সাময়িক আটক ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, বনযোগীছড়া জোন কমান্ডার কর্তৃক দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রচারণা চালালে অসুবিধা হবে বলে হুমকি দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১:৩০ টার দিকে জুরাছড়ি সদরের যক্ষা বাজার সেনা ক্যাম্পের সামনে দিয়ে যাওয়ার বনযোগীছড়া সেনা জোনের এজেন্ট মোঃ সোহেল রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র সরেশ চাকমা ও রনি চাকমাকে থামিয়ে চেকপোস্টে আটক করে রাখে। সরেশ চাকমা ও রনি চাকমা দু’জনেই জুরাছড়ি সদরস্থ বড়ইতুলি এলাকার বাসিন্দা।

প্রায় আধা ঘন্টা পর দুপুর ২ টার দিকে, সরেশ চাকমা ও রনি চাকমাকে চেক পোস্ট থেকে যক্ষা বাজার সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের সাথে কোনো কথা না বলে প্রায় ৩ ঘন্টা হয়রানিমূলকভাবে বসিয়ে রাখা হয়। পরে বিকাল ৫ টার দিকে সেনা এজেন্ট সোহেল গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জুরাছড়ি থানা শাখা কর্তৃক শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার একটি ছবি রনি চাকমাকে দেখায় এবং ছবির ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, পরিচয় দিতে বলে।

এরপর সেনা এজেন্ট মোঃ সোহেল আগামীকাল (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় সরেশ চাকমা ও রনি চাকমাকে যক্ষা বাজার সেনা ক্যাম্পে হাজির হতে হবে বলে। এরপর হয়রানিমূলক আরো নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে বিকাল ৫:৩০ টার দিকে দুই ছাত্রকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও জুরাছড়ি সদরের ঢেবাছড়া গ্রামের কার্বারি ধনঞ্জয় চাকমা এবং ১নং জুরাছড়ি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কিরন চন্দ্র চাকমাকে ক্যাম্পে ডেকে হয়রানি করা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, গত ২৪ এপ্রিল, বনযোগীছড়া সেনা জোনের জোন কমান্ডার এর এজেন্ট মো: মঞ্জু জোন কমান্ডারের বরাত দিয়ে ১নং জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা (৪৫) ও ৪নং দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শান্তিরাজ চাকমাকে (৪৮) নির্দেশ দেন যে, তারা আসন্ন (৮ মে) উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবে না। প্রচারণা চালালে অসুবিধা হবে।

এবিষয়ে জুরাছড়ির এক মুরুব্বি বলেন, নির্বাচনের সময় কী করতে হবে চেয়ারম্যানগণ নিশ্চয়ই জানেন। কিন্তু তৎসত্ত্বেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এহেন আচরণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।