জুরাছড়িতে নির্মাণাধীন ট্রান্সজিট রোডের কারণে ২০টি জুম্ম পরিবার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন

0
508

হিল ভয়েস, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, জুরাছড়ি: রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত জুরাছড়ি উপজেলার ৪ নং দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম কনস্ট্রাকশন বিভাগ “ এর তত্ত্বাবধানে চলমান ট্রান্সজিট রোডকে প্রসারিত করার কাজে অন্তত ২০টি জুম্ম পরিবার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে খবার পাওয়া গেছে। জানা যায় এতে প্রায় ১৫ পরিবারের বাগান-বাগিচা ধ্বংস ও ৫ পরিবারের বসতবাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকাশিত এক রিপোর্টে রাজস্থলী-বিলাইছড়ি-জুরাছড়ি-বরকল-ঠেগামুখ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য আনুমানিক ৬১১ একর ভূমির প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়। সমীক্ষায় জানানো হয় যে, উক্ত রাজস্থলী-বিলাইছড়ি-জুরাছড়ি-বরকল-ঠেগামুখ সড়ক নির্মাণ করা হলে ১১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, ৫৬৪ পরিবার প্রভাবিত/ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ২৪১টি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ১৫৭ পরিবার ব্যবসায়িক কাঠামো হারাবে, ১০টি সাংস্কৃতিক অবকাঠামো (৩টি মসজিদ, ৩টি মন্দির ও ৪ টি স্কুল) ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ৩২টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানানো হয়।

১৫টি পরিবারের বাগান-বাগিচা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিম্নে দেয়া হল-

১. সুরেশ চন্দ্র চাকমা, পীং- বিজুমন চাকমা, গ্রাম: রক্তছড়া পাড়া, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ – সেগুন গাছ ৫০টি, গামারী গাছ ১০ টি, আম গাছ ২০ টি, কমলা গাছ ৩৫ টি।

২. লক্ষী রজ্ঞন চাকমা, পীং- দেবজিৎ চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ – সেগুন গাছ ৫০টি, গামারী গাছ ১০টি।

৩.কৃঞ্চ চাকমা,পীং- ফকির চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি । ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ৫০ টি, গামারী গাছ ১৫টি।

৪. শান্তি রঞ্জন চাকমা, পীং- বৃষ চন্দ্র চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন।ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ- সেগুন গাছ ৬০ টি।

৫. কালো রঞ্জন চাকমা, পীং-কৃঞ্চ মোহন চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ১০০টি, গামারী গাছ ২০টি, কমলা গাছ ৫টি, কাঠাল গাছ ১০টি।

৬. মনুরঞ্জন চাকমা,পীং- কৃঞ্চ মোহন চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ – সেগুন গাছ ৫০টি, গামারী গাছ ১০টি, কাঠাল গাছ ৫টি, আম গাছ ৬টি।

৭. জগদিশ চাকমা , পীং- অমর ধন চাকমা, গ্রাম- লাম্বা ছড়া মুখ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ – সেগুন গাছ ১৫০টি, গামারী গাছ ১০টি।

৮. কালকেতু চাকমা,পীং- মৃত রাত্তোরাম চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ১৬০টি, গামারী গাছ ১০টি।

৯. রুনি চাকমা, পীং-মঙ্গল চন্দ্র চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ – সেগুন গাছ ৩০টি, গামারী গাছ ১০টি।

১০. রুপেশ কার্বারী, পীং- অজ্ঞাত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ২০টি, গামারী ৫টি।

১১. রত্ন মন চাকমা, পীং- উদয় কুমার চাকমা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ৭০টি, গামারী ৫টি।

১২. নিপন চাকমা,পীং- হজ মুনি চাকমা, গ্রাম-করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ৫০ টি।

১৩.অসিম চাকমা, পীং- অমর ধন চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ২৫টি, গামারী গাছ ৫টি।

১৪. অশোক কুমার চাকমা, পীং- সশিরাজ চাকমা, গ্রাম- দুমদুম্যা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ৫০টি।

১৫. লক্ষী লাল চাকমা, পীং- লক্ষীচন্দ্র চাকমা, গ্রাম-করল্যাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ- সেগুন গাছ ৬০টি, গামারী গাছ ৬টি।

এখানে উল্লেখ্য যে, উল্লেখিত মনুরঞ্জন চাকমার গাছ বাদে বাকী সবগুলোর গাছের বয়স আনুমানিক ৪-৬ বছরের মধ্যে।

৫টি পরিবারের বসতবাড়ি ও চায়ের দোকান ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা নিম্নে দেয়া হল-

১. অসীম চাকমা, পীং- অমর ধন চাকমা, গ্রাম- করল্যাছড়ি ,৬নং ওয়ার্ড, দুমদুম্যা ইউনিয়ন।

২.লক্ষীরাণী চাকমা, স্বামী- মৃত ছারাধন চাকমা, সাং – ঐ

৩.অনন্ত চাকমা, পীং- অমরধন চাকমা, সাং – ঐ

৪.রনি চাকমা, পীং-মঙ্গল চন্দ্র চাকমা, সাং – ঐ। ( বসত বাড়ি ও চায়ের দোকান)

৫.সতেজ চাকমা, পীং-নিপেন চাকমা, সাং – ঐ।