খ্রীষ্টান রাষ্ট্র নয়, পাহাড়ে ইসলামিকরণের কাজ চলছে (পর্ব-১)

0
236

মিতুল চাকমা বিশাল

 

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়কে জোর করে একটি ভূ-রাজনৈতিক হাল-চালের সমাবেশস্থলে পরিণত করার এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সেই মহাযজ্ঞ প্রথমদিকে রাষ্ট্রীয় কিছু ব্যুরোক্র্যাটস্ (সিভিল এবং মিলিটারি) সামিল থাকলেও অতি সম্প্রতি সেটি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রীষ্টান মিশনারীগুলো ধর্মান্তরিতকরণের কাজ করছে, কখনও বা বলা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে খ্রীষ্টান রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা চলছে, কখনও বা বলা হচ্ছে পাহাড়ে আরো সামরিকায়ন চায়। সত্যি বলতে পাহাড়কে নিয়ে এই রাষ্ট্রযন্ত্র ও এতদসংশ্লিষ্ট আমলা তথা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ভাবনার শেষ নেই। কখনও সীমান্ত নিরাপত্তার দোহাই, কখনও সশস্ত্র গ্রুপ নির্মূলের দোহাই, কখনও পর্যটন কেন্দ্র বসানোর দোহাই দিয়ে পাহাড়ে যে কত কি চলছে, তার কোনো হিসেব নেই। আমি শুধু ভাবি, এরা পাহাড়কে নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে, তার বিন্দু পরিমাণ চিন্তাও যদি পাহাড়ের মানুষদের নিয়ে করতো, তাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে চিন্তা করতো, তাহলে পাহাড়ের পুরো চিত্রটাই বদলে যেতো। বাস্তবিকপক্ষে তাদের চিন্তায় পাহাড় থাকলেও, পাহাড়ের মানুষগুলো থাকে না। আরো স্পেসিফিকলি বলতে গেলে, পাহাড়কে নিয়ে পাহাড়ি বিহীন এক চেতনা ও চিন্তার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

এটা অবশ্য অনস্বীকার্য যে, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র, কোনো দেশ বা কোনো অঞ্চল ভূ-রাজনৈতিক হাল-চালের বাইরে নয়। কেননা ভূ-রাজনীতি হচ্ছে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়, যা পরস্পরকে প্রভাবিত করে এবং পরস্পরকে নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচেষ্টাও সেখানে থাকে। অতএব, পার্বত্য চট্টগ্রামও এর বাইরে নয়। কিন্তু আমাদের দেশের স্বঘোষিত নামজাদা বুদ্ধিজীবী লেখকদের লেখা পড়ে তাদের ভূ-রাজনৈতিক যৌক্তিকতা দেখে একরকম হাসি পায়। পাহাড় সম্পর্কে যাদের বিন্দুমাত্র ধ্যান-ধারণা নেই, পাহাড়ের রাজনৈতিক হাল-চালের অ-আ, ক-খ সম্পর্কে যাদের বিন্দু-বিসর্গও জানা নেই, সেই তারাই আজকাল পাহাড় নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। সত্যি বলতে এগুলো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিজীবীদের সেই দল, যারা ব্যক্তিগত কিছু এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের আনুকূল্য পাওয়ার কুৎসিত নেশায় কলম ধরেছে। তারা ভূ-রাজনীতি শব্দটি শিখেছে বটে, তবে কোথাকার ভূ-রাজনীতি কার সাথে, কিভাবে, কোন ধরনে সম্পর্কিত ও প্রভাবিত সেটি তাদের কাছে আদৌ জ্ঞাত নয়। তজ্জন্যই তারা সুদূর আমেরিকার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে মানুষকে ভীত করতে চায়। দেশবাসীকে জুজুর ভয় দেখাতে চায়। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলতেই লোকে আঁতকে ওঠে, ভাবে এবং চিন্তা করে।

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লংঘন এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘বাধাগ্রস্ত’ করে এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করতে নতুন ভিসানীতি প্রণয়ন করেছে দেশটির সরকার। এসব ব্যক্তির পাশাপাশি তাদের পরিবারের নিকটতম সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ‘অযোগ্য’ বিবেচিত হবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এই তালিকায় পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সহ আরো কিছু মন্ত্রী-আমলাও রয়েছেন। এ নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে বেশ অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আওয়ামীলীগ এখন সব জায়গাতেই, অর্থাৎ নিজেদের দূর্বলতার জায়গাগুলোতে আমেরিকাকে দোষারোপ করে চলেছে প্রতিনিয়ত। কখনও গণতন্ত্রের নামে কখনও বিএনপির নামে, কখনও জামায়াতের নামে, কখনও বা উন্নয়নের নামে, এমনকি পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যাতেও তারা এখন আমেরিকাকে যুক্ত করেছে। এমনকি রিসেন্টলি আজিজ আহমেদ ও বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি এবং কলকাতায় খুন হওয়া ঝিনাইদহ আসনের এমপির অন্ধকার জগৎ নিয়ে যে হারে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের একটা পথ আওয়ামীলীগকে খুঁজতে হচ্ছে। আর এই বেনজীর এবং আজিজ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার দুই হাত। অতএব, তাদের নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রী চুপ করে বসে থাকবেন, এমনটা প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক বটেই। সেকারণে তিনিও এখন প্রকাশ্যে নির্দ্বিধায় বলতে শুরু করলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামও নাকি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর হতে চলেছে। পাহাড়কে খ্রীষ্টান রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বাস্তবিকপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে শায়েস্তা করার কিংবা কড়া জবাব দেওয়ার মুরোদ এই রাষ্ট্র কিংবা রাষ্ট্রের কথিত আমলাতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীদের নেই, তাই তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে এর সঙ্গে জড়িয়ে একটি কল্পিত, বাস্তবতা বিবর্জিত ভূ-রাজনৈতিক ক্রিয়া দেখতে পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় বলছেন, কেউ নাকি সেইন্ট মার্টিনে সামরিক ঘাঁটি করতে চেয়েছে, উনি রাজী হননি। তার ইঙ্গিতটা নিঃসন্দেহে আমেরিকার দিকে। কারণ তার ধারণা একারণেই আওয়ামীলীগের উপর আমেরিকার রাগ-ক্ষোভ বেশি। এটি হতেই পারে! কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাতে পাহাড়কে জড়ানোর উদ্দেশ্যটা কি? পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সমুদ্র রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়িক সাগর পথ হচ্ছে এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী। যেটি দিয়ে বছরে ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এবং বিশ্বের ২৫% পণ্য এই রুট দিয়ে চলাচল করে, যার বেশির ভাগটাই তেল এবং তাতে নিশ্চয়ই চীনের অগ্রাধিকারটা বেশি। আর এই মালাক্কা প্রণালী ভারতের আন্দামান-নিকোবর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের কাছেই অবস্থিত। আমেরিকা অবশ্যই চায়, এখানে তার প্রভাব বিস্তার করতে এবং চীনও ঠিক তাই চায়। ভূ-রাজনৈতিক বা কৌশলগত যাই বলি না কেন, সেইন্ট মার্টিন দ্বীপের গুরুত্ব প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে যে সেইন্ট মার্টিনে সামরিক ঘাঁটি গড়ার উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম-মায়ানমার নিয়ে খ্রীষ্টান রাষ্ট্র তৈরি করা, এটা আবার কোন ধরনের শিশুসূলভ আজগুবি! বাস্তবিকপক্ষে এর মধ্য দিয়ে পাহাড়কে জড়িয়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক হাল-চালকে দেশবাসীর কাছে আতঙ্কের সুরে প্রচার করে নিজেদের অপকর্মকে কুলো দিয়ে ঢেকে একটা সাময়িক সিমপ্যাথি লাভের চেষ্টা করছে রাষ্ট্রযন্ত্র, যার বাস্তবিক ভিত্তি এবং সম্ভাব্যতা কোনটাই নেই।

গত ৩০ মে ২০২৪, কালের কন্ঠ পত্রিকার মতামত কলামে জাকির হোসেইন নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক অধ্যাপকের কলাম প্রকাশিত হয়েছে। কলামটা দেখেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে যারা টুকটাক ধ্যান-ধারণা রাখেন, তারা নিঃসন্দেহে মর্মাহত হতে বাধ্য। কলামের আগা-গোড়াই আওয়ীমীলগের জয়গানে ঠাসা! সেখানে আওয়ামীলীগদের ভীড় ঠেলে ভূ-রাজনীতি আর রাজনৈতিক হাল-চালের চরিত্র আবিষ্কার করাটা একেবারেই কঠিন। অধ্যাপক তিনিই, যিনি অধ্যাপনা করেন। কিন্তু তাঁর লেখা পড়ে যে কেউ একবাক্যে বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না যে, লোকটা অধ্যপনাটাই ছেড়ে দিয়েছেন। উনিও আওয়ামীলীগের সুরে তাল মিলিয়ে একটি কল্পলৌকিক খ্রীষ্টান রাষ্ট্রের কথা বলেছেন, যার ব্যাপ্তি পাহাড় থেকে মায়নামার। হ্যাঁ! আমিও হলফ করে বলতে পারি, পাহাড়কে পূর্ব তিমুরে পরিণত করা হচ্ছে। তবে পূর্ব তিমুরের মত খ্রীষ্টান রাষ্ট্র নয়, পাহাড়কে মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চলে পরিণত করা হচ্ছে। পাহাড়কে ইসলামের জঙ্গী-জেহাদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করে মায়ানমারের চিন হিল ও আরাকান, ভারতের মিজোরামে ইসলামের সম্প্রসারণ করে সমগ্র মিয়ানমার এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে ইসলামের জয়জয়কার ধ্বনি তোলার একটা প্রচেষ্টা হচ্ছে। বিশ্বাস হচ্ছ না তো! চলুন দেখে নিই গত ২০২২ সালের আদমশুমারির জনপরিসংখ্যান চিত্র।

২০২২ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত জনগণনাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৫০.০৬% বাঙালি (আদি স্থায়ী ও বহিরাগত) এবং ৪৯.৯৪% পাহাড়ি। জেলা ভিত্তিক এ পরিসংখ্যান খাগড়াছড়িতে বাঙালি ৫১.০৮% এবং পাহাড়ি ৪৮.৯২%, রাঙামাটিতে বাঙালি ৪২.৪২% এবং পাহাড়ি ৫৭.৫৮%, বান্দরবানে বাঙালি ৫৮.৮৫% এবং পাহাড়ি ৪১.১৫%।

ধর্মীয় পরিসংখ্যান কি বলছে, তাও দেখা যাক, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪৪.৫২% মুসলিম, ৪১.৭৪% বৌদ্ধ, ৯.১৮% হিন্দু, ৩.২৬% খ্রীষ্টান এবং ১.৩০% অন্যান্য। জেলা অনুযায়ী এই হার খাগড়াছড়িতে ৪৬.৫৬% মুসলিম, ৩৫.৯২% বৌদ্ধ, ১৬.৭৫% হিন্দু, ০.৬২% খ্রীষ্টান এবং ০.১৬% অন্যান্য। রাঙামাটিতে ৩৬.২২% মুসলিম, ৫৭.২৫% বৌদ্ধ, ৫.১০% হিন্দু, ১.৩২% খ্রীষ্টান এবং ০.১১% অন্যান্য। অনুরূপভাবে বান্দরবানে ৫২.৬৮% মুসলিম, ২৯.৫২% বৌদ্ধ, ৩.৪২% হিন্দু, ৯.৭৮% খ্রীষ্টান এবং ৪.৬১% অন্যান্য।

ভারত বিভক্তির সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনসংখ্যা, যারা অমুসলিম, ছিল ৯৭.৫%। আর মুসলমান ও হিন্দু মিলে অজুম্ম জনসংখ্যা ছিল ২.৫%, তন্মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১.৫% – যার মোট মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৭,২৭০ জন। তাও আবার অর্ধেকেরও বেশী লোক ছিল ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবী। এই ১.৫% মুসলিম জনসংখ্যা ২৫ বছরে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৭৪ সালে হয়েছিল ২২.৮% এবং জুম্ম জনসংখ্যার কমে হয়েছিল ৭৭.২%। আরো দেখুন, বাংলাদেশ শাসনামলে বিগত ৫০ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা ২২.৮% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০.০৬%-এ। এ থেকে বুঝা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কি খ্রীষ্টান অঞ্চল বানানো হচ্ছে নাকি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা হচ্ছে।

অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ আমলে সরকারি উদ্যোগে ও অর্থায়নে চার লক্ষাধিক বাঙালি মুসলমান পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি দেয়া হয়েছিল। সেই অনুপ্রবেশের ধারা কখনোই বন্ধ হয়নি। আওয়ামীলীগের শাসনামলেও সরকারি উদ্যোগে অভিবাসী সেটেলারদের গুচ্ছগ্রাম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই সত্তর দশক থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপন করে আসছে। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কেবল বান্দরবান জেলায় বর্তমানে বসতিস্থাপনকারী রোহিঙ্গ্যাদের জনসংখ্যা ৫০ হাজারের অধিক হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তারা স্থায়ী বাসিন্দা সনদপত্র নিচ্ছে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, চাকরিসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল করছে।

বলাবাহুল্য, অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার রাষ্ট্রীয় নীতি বলবৎ থাকায় ইসলামী জঙ্গী সংগঠনগুলো পাহাড়ে ঘাঁটি স্থাপন ও গোপন কর্মকান্ড চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে তেমন বাধার মুখে পড়ে না। ফলে সেই রাষ্ট্রীয় নীতির ছত্রছায়ায় একাধিক ইসলামী সশস্ত্র জঙ্গী সংগঠন গোপন জিহাদি মিশন নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় তৎপরতা শুরু করে। তারই আলোকে ‘জামায়াতে আরাকান’ নামে একটি ইসলামী সশস্ত্র জঙ্গী সংগঠনটি বান্দরবানে ঘাঁটি স্থাপন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে ২০০৫ সালের দিকে। পরে ২০১৮ সালের শেষান্তে জামায়াতে আরাকানের জঙ্গী নেতারা জামায়াতে আরাকানের পরিবর্তে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ নামে জঙ্গী কার্যক্রম সংগঠিত করতে থাকে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও আলিকদম এবং কক্সবাজার-সংলগ্ন মিয়ানমারের মংদু অঞ্চলের একাংশ নিয়ে দেশের দুর্গম এলাকায় একটি ‘স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার গোপন মিশন নিয়ে কাজ করে এই ইসলামী জঙ্গি সংগঠনটি। এলক্ষ্যে তারা কথিত ইসলামী রাষ্ট্রটির পতাকা, সিল মোহর, মুদ্রা ইত্যাদিরও পরিকল্পনা করে থাকে।
(চলবে… ….)