খাগড়াছড়িতে আদিবাসী শিক্ষিকা ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ

0
355
ছবি : প্রতিকী

হিল ভয়েস, ১৫ মার্চ ২০২৩, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে মোঃ হারুন-অর-রশিদ (৪০) নামে এক প্রাক্তন বাঙালি শিক্ষক কর্তৃক এক আদিবাসী নারী (৪৫) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখ খাগড়াছড়ি সদরে। ধর্ষকের হুমকির ভয় এবং লজ্জা ও অপমানের কারণে ভুক্তভোগী নারী এতদিন ঘটনাটি প্রকাশ না করলেও, গতকাল ১৪ মার্চ ২০২৩ তিনি নিজেই খাগড়াছড়ি সদর থানায় ধর্ষক মোঃ হারুন-অর-রশিদ এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা তাদের এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এই ধর্ষণ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং উক্ত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখ এক আদিবাসী নারী (৪৫) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খাগড়াছড়ি সদরে এসে খাগড়াছড়ি থানাধীন ০৫ নং পৌর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হারুন-অর-রশিদ (৪০) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন ধর্ষণের শিকার বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সরকারি অফিসে কর্মরত স্বামীর কাছে এসেছিলেন। তিনি খাগড়াছড়িতে আসবেন জেনে পূর্ব-পরিচিত মোঃ হারুন-অর-রশিদ তার সাথে দেখা করতে বারবার অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য যে, হারুন-অর-রশিদ পূর্বে শিক্ষক ছিলেন। হারুন-অর-রশিদ এর অনুরোধক্রমে তার সাথে দেখা করার জন্য খাগড়াছড়ি থানাধীন সেলিম মার্কেটে এসে তার সাথে বনফুল রেস্তোরাঁয় নাস্তা করেন। নাস্তা খাওয়ার পর তিনি অসুস্থবোধ করছিলেন, সেজন্য স্বামীর বাসায় চলে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। চলে যাওয়ার জন্য ব্যাটারি চালিত টমটমে উঠেন এবং হারুন-অর-রশিদও তাকে এগিয়ে দিবে বলে টমটমে ওঠে। কিন্তু টমটমে ওঠার পর স্কুল শিক্ষিকা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফেরার পর স্কুল শিক্ষিকা নিজেকে হারুন-অর-রশীদের বাসায় আবিস্কার করেন এবং জানতে পারেন তাকে বিয়ে করার জন্য আটকে রাখা হয়েছে। ভিক্টিমের আত্মীয়ের সূত্রে জানা যায় যে, হারুণ-অর-রশিদ তার বাসায় জোর পূর্বক আটকে রেখে বিকাল আনুমানিক ৩.৩০টা হতে রাত আনুমানিক ৮.০০ টার মধ্যে ধর্ষণ করে ও ধর্ষণের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে হারুন-অর-রশীদ তাকে স্বামীর বাসায় দিয়ে যায় এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে যায়। লজ্জায় অপমানে স্কুল শিক্ষিকা এ ঘটনা কাউকে বলতে পারেননি। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ঘটনাটি খুলে বললে ঘটনার শিকার স্কুল শিক্ষিকার পাশে পরিবারের সদস্যরা পাশে দাঁড়ান এবং তাদেরকে পাশে পাওয়ার কারণে ঘটনার ২২দিন পর গত ১৪ই মার্চ খাগড়াছড়ি সদর থানায় হারুন-অর-রশিদ এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।