কমলগঞ্জে আদিবাসী খাসিয়া যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ

0
579

হিল ভয়েস, ২২ এপ্রিল ২০২১, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা পুঞ্জির পানজুমে প্রবেশ করে ফরমি সুচিয়াং (২৮) নামে এক খাসিয়া যুবককে ধরে রাজকান্দি বনরেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বনবিটের কয়েকজন কর্তৃক মারধরের পর হাত-পা বেঁধে কুরমা বনবিটে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ এপ্রিল ২০২১ মঙ্গলবার বিকেলে দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নির্যাতিত ফরমি সুচিয়াং ফরেষ্ট ভিলেজার ও একই পুঞ্জির রিয়াং খংলার ছেলে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় নির্যাতিতার মামা ডালিম সুচিয়াং ও পুঞ্জির সহকারী হেডম্যান একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর দিয়ে আহত যুবকে ছাড়িয়ে নিয়ে বুধবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতিত খাসিয়া যুবক ফরমি সুচিয়াং জানান, ‘গত মঙ্গলবার বিকালে রাজকান্দি বনরেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে কুরমা বনবিটের নবনিযুক্ত বিট কর্মকর্তা রাজ্জাক আহমেদসহ বনকর্মীরা পান জুমের ভেতর প্রবেশ করেন। করোনাকালে পানজুম এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে এ সময় তিনি তাদেরকে প্রবেশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে বনপ্রহরী জহির মিয়া, ফুরকান মিয়া ও নতুন বনবিট কর্মকর্তা রাজ্জাক আহমেদসহ ৪/৫ জন মিলে তাকে ধরে লাঠি দিয়ে পেটান। পরে আবার হাত-পা বেঁধে ধরে নিয়ে কুরমা বনবিটের একটি অন্ধকার কক্ষে আটকিয়ে রেখে তাকে নির্যাতন করে।’

কুরমা পুঞ্জির সহকারী হেডম্যান ছার্লেস সুঙ মুঠোফোনে বলেন, ‘তারা বনের জমিতে ফরেস্ট ভিলেজার হিসেবে বসবাস করে পান চাষ করেন। তাদের পুঞ্জির যুবক যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে তার বিচার করা যেত। এভাবে বনে প্রথম দফা মারধর করে আবার বনবিটে নিয়ে একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।’

অভিযোগ বিষয়ে রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, যুবকটি বনের গাছ-গাছালি ছাঁটাই করছিল। এ জন্য তাকে শাসন করা হয়েছে। তবে মুচলেকা সম্পর্কে তিনি কিছুই বলেননি।

খাসিয়া হেডম্যানদের সংগঠন খাসি সোশাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুচিয়াং বলেন, ‘এভাবে কাউকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা ঠিক হয়নি।’ তিনি এ ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনা তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয় নি।