এইচডাব্লিউএফের বিবৃতিঃ জুম্ম নারীর উপর অব্যাহত সহিংসতার প্রতিবাদ, দোষীদের গ্রেপ্তার ও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি

0
343

হিল ভয়েস, ১৮ মার্চ ২০২৩, রাঙ্গামাটি: হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডাব্লিউএফ) পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত আদিবাসী জুম্ম নারীর উপর হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হয়রানি ইত্যাদি সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও যথাযথ বিচারের দাবিতে এক প্রেস বিবৃতি দিয়েছে।

আজ ১৮ মার্চ ২০২৩ হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য উলিসিং মারমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় এই নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং দাবির কথা জানানো হয়েছে।

প্রেস বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম নারীদের হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুত একের পর জুম্ম নারীর উপর সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার যথাযথ বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করার কারণে বারবার এধরনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লাউঝিরি এলাকায় সেটেলার বাঙালি মো. কায়সার (৩৮) কর্তৃক এক আদিবাসী মারমা নারী ধর্ষণের শিকার হয়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক জুম্ম স্কুলছাত্রীকে (১৪) দুপুরের দিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং এর পরপরই কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্তৃক আটক রেখে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় ও পাচারের চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

গত ৩ মার্চ ২০২৩, সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে রাঙ্গামাটি জেলাধীন বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে মাইচছড়ি গ্রামে রাঙ্গামাটি-জুরাছড়ি জলপথের এক সেটেলার বোট চালক কর্তৃক এক আদিবাসী চাকমা নারী (২৫) ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের চেষ্টাকারী বোট চালকের নাম আবদুল মালেক (৫৫), পীং-বাচা মিয়া, ঠিকানা-রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি বলে জানা গেছে।

গত ৫ মার্চ ২০২৩, রাত ৮ টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ধামাইরহাট এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন হন রাঙ্গামাটির তরুণী চম্পা চাকমা (২৬)। নিহত চম্পা রাঙামাটি সদর উপজেলার ৫নং বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাক্রাছড়ি গ্রামের শান্তিময় চাকমার মেয়ে। তিনি পদক্ষেপ নামে একটি বেসরকারি মানবিক উন্নয়ন সংস্থায় রাঙ্গুনিয়া শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এক আদিবাসী নারী (৪৫) খাগড়াছড়ি সদরের ৫ নং পৌর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হারুন-অর-রশিদ (৪০) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষকের হুমকি, লজ্জা ও অপমানের ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী নারী এতদিন ঘটনাটি প্রকাশ না করলেও, গত ১৪ মার্চ ২০২৩ তিনি নিজেই খাগড়াছড়ি সদর থানায় ধর্ষক মোঃ হারুন-অর রশিদ এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

গত ১১ মার্চ ২০২৩, বান্দরবান জেলাধীন থানচি উপজেলার রেমাক্রি-প্রাংসা ইউনিয়নের তামলৌ পাড়ার এক গর্ভবতী আদিবাসী বম নারী (৩৫)-কে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে ডেকে নিয়ে সেনাসদস্যরা নির্যাতন ও হয়রানি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত ছয়টি ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি, যেমন লামার ফাঁসিয়াখালির আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনার অভিযুক্ত মোঃ কায়সারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অন্যান্য সহিংস ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করেনি।

বিবৃতিতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন এসব সহিংস ঘটনার প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার ও প্রশাসনের নিকট নিম্নোক্ত দাবি জানিয়েছে-

(১) অবিলম্বে ধর্ষক ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

(২) দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণাপূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।