আদিবাসী বিষয়ক রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের

0
717

হিল ভয়েস, ২৯ জুলাই ২০২২, বিশেষ প্রতিবেদক: ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ সরকার তথা রাষ্ট্র কর্তৃক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রেরিত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে আদিবাসীদের যোগ্য সম্মান এবং অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবির কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আজ (২৯ জুলাই) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক রেজোয়ান হক মুক্ত স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায়।

বিবৃতিতে আদিবাসীদের উপর সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ছোট ছোট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার না করার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে প্রচারের জন্য টেলিভিশনগুলোকে অনুরোধ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেখ শামছুর রহমানের সই করা এক চিঠিতে টেলিভিশনগুলোর কর্তৃপক্ষকে এই অনুরোধ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের অন্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার না করার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে প্রচারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসা জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় তাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময় নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুনের শিকার হতে হয়েছে, অথচ কোন বিচার হয়নি। বর্তমান সরকার সেই একই ধারায় সংখ্যালঘ্যু সম্প্রদায় সহ আদিবাসীদের উপরে নির্যাতন, নিপীড়ন এবং হামলার বিচার করতে ব্যর্থ। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের পাশাপাশি আদিবাসীদেরও রক্ত ঝরেছে। তারাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এদেশের স্বাধীনতার জন্য। বাংলাদেশ যেমন একজন বাঙালির তেমনি এদেশ একজন আদিবাসীর। শুধুমাত্র সংখ্যায় কম বলে তাদের দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর তকমা, যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আদিবাসীদের তাদের যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে। আদিবাসীদের উপরে সকল নির্যাতন এবং হামলার বিচার করতে হবে।”