আগ্রাসী উন্নয়ন প্রকল্প জুম্মদের জাতীয় অস্তিত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক: এমরিপে জেএসএস প্রতিনিধি

0
799
এমরিপে জেএসএস প্রতিনিধি

হিল ভয়েস, ৬ জুলাই ২০২২, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা বলেছেন, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক আগ্রাসী উন্নয়ন প্রকল্প আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক।

তিনি এই বিবৃতি দেন জনসংহতি সমিতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইনডিজেনাস অ্যাফেয়ার্স-এর পক্ষ থেকে ৬ জুলাই ২০২২ জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা (এমরিপ)-এর ১৫তম অধিবেশনে “আইটেম ৮: আদিবাসী নারীদের উপর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাবের উপর প্যানেল আলোচনা” শীর্ষক এজেন্ডায় অংশগ্রহণ করে।

তার বক্তব্যে অগাস্টিনা চাকমা বলেন, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তিক অর্থনীতির উপর আগ্রাসী উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ আদিবাসীদের নিজেদের ভূমি ও বন থেকে স্থানচ্যুতি ঘটায়।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন অনেক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক। বিশেষ করে আদিবাসী জুম্ম নারীরা এই ধরনের প্রকল্পের সবচেয়ে শোচনীয় শিকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী কর্তৃক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে এমন একটি প্রকল্প। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও শপিং সেন্টার স্থাপন করে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জুম্ম জনগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ব্যাপক পাহাড়ি ভূমি দখল করে নিয়েছে।

আরেকটি উদাহরণ হল, সম্প্রতি ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, বহিরাগত ভূমি বেদখলকারীরা ভূমি বেদখলের উদ্দেশ্যে লামার তিনটি গ্রামে ৩৫০ একর জুম চাষের জমি, বাগান, এবং গ্রামবাসীদের সাধারণ বনে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ফলে ৩৯টি আদিবাসী পরিবারের ২০০ জন নারী-পুরুষ জীবিকা, খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে পড়েন।

বাস্তুচ্যুত নারীদের খাদ্য নিরাপত্তার উপর এই সবকিছুর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। আদিবাসী নারীদের ভূমি ও বন থেকে উচ্ছেদের ফল হচ্ছে তাদেরকে লিঙ্গ বৈষম্য ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তাই, আদিবাসী নারীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতল ভূমিতে তাদের জীবিকার উৎস হারাচ্ছেন।

বিশিষ্ট প্যানেল আলোচকদের উদ্দেশ্যে আমার একটি জিজ্ঞাস্য যে, আমরা একসঙ্গে কী ধরনের বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রণয়ন করতে পারি যা আদিবাসী সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষতি না করে আদিবাসী অঞ্চলে যথাযথ উন্নয়নের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অবশেষে, অগাস্টিনা চাকমা এই প্রশ্ন করে তার বক্তব্যে শেষ করেন যে, আমার বাংলাদেশি বোনদের মত যেসব লোক যারা এই পরিস্থিতিতে বসবাস করে তারা কি করতে পারে যখন তারা যৌন, শারীরিক ও মানসিক হয়রানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্বল সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকে যাদের হয়তো পর্যাপ্ত সম্পদের সুযোগও নাই?

গত ৪ জুলাই ২০২২ সোমবার থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ জাতিসংঘের অফিসে এমরিপের ১৫তম অধিবেশন শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন এজেন্ডার উপর অধিবেশনটি চলবে ৮ জুলাই পর্যন্ত। উক্ত অধিবেশনে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি ছাড়াও, বাংলাদেশ থেকে মৃণাল কান্তি ত্রিপুরাও একই বিষয়ে অংশগ্রহণ করে বক্তব্য প্রদান করেছেন।