হিল ভয়েস, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, রাঙ্গামাটি: গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাঙামাটি জেলাধীন কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া বাজার এলাকায় বিজু উৎসব পালনে যাওয়ার সময় বিকাল আনুমানিক ২ ঘটিকার সময়ে ঘাগড়া বাজার হতে চম্পাতলী যাওয়ার পথে সেখানে অবস্থানরত সেটেলার বাঙালি সিএনজি ড্রাইভার অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় জুম্ম যুবকরা প্রতিবাদ করার কারণে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক মারধরের শিকার হয় বলে জানা যায়। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র মোতাবেক, গতকাল ঘাগড়া থেকে চম্পাতলী যাওয়ার পথে অন্তত ১৫ জন জুম্ম যুবক এবং ঢাকা থেকে আগত কয়েকজন বাঙালি বন্ধু মিলে বিজু উৎসবে যাওয়ার সময় ঘাগড়া বাজারে অবস্থানরত সেটেলার বাঙালি সিএনজি ড্রাইভার ৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দাবি করে। পরে জুম্ম যুবকরা এর প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে সেটেলার বাঙালি ড্রাইভার এক জুম্ম যুবকের উপরে হাত তুলে। পরবর্তীতে জুম্ম যুবকরা এর তীব্র প্রতিবাদ করায় মুহূর্তের মধ্যে ঘাগড়া এলাকার অন্যান্য সেটেলার বাঙালি সিএনজি ড্রাইভাররা, দোকানদার একত্রিত হয়ে লাঠি-সোটা, ইট-পাটকেল দিয়ে জুম্ম যুবকদের উপর উপর্যুপরি হামলা চালায়। পরে সেটেলার বাঙালিরা সেখানে থাকা জুম্মদের উপরেও মারধর করে। এতে চম্পাতলী গ্রামের আশেপাশে জুম্ম গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে সেটেলার বাঙালিদের এই হামলার প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। যা এক পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় রূপ নেয়।

আরো জানা যায়, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর তিনটি টহলরত গাড়ি সেটেলারদের অনুরোধে থামে। পরে যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা, সেখানে উল্টো সেনাবাহিনীর উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেটেলার বাঙালিরা জুম্মদের উপর চড়াও হয়। পরে জুম্মরা রক্তাক্ত অবস্থায় সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইতে গেলে, তাদের একজন সদস্য বলে- ‘এটা আমাদের দায়িত্ব না।’
এই ঘটনায় সৈকত চাকমা, জয় চাকমা, সুজয় চাকমা, রিপেন চাকমা, এন্জেল চাকমা, অনিন্দ চাকমাসহ আরো অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। শ্যামল চাকমা, ভবেশ চাকমা, পূর্ণময় খীসা, শাহারিক ইস্তিক রাজ, আডনান সাকিব, জারিন তাসনিম সাইকা, ইবনা জিহাদ ফিহাম উক্ত ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয় জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইউল্যাবে (ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ) মিডিয়া এন্ড জার্নালিজম নিয়ে অধ্যয়নরত শাহারিক ইস্তিক রাজ, আডনান সাকিব, জারিন তাসনিম সাইকা, ইবনা জিহাদ ফিহাম মূলত জুম্মদের ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, সাংক্রাই, সাংগ্রাইং, সাংলান, পাতা উৎসবকে নিয়ে তারা তাদের রিসার্সের জন্য সেখানে গিয়েছিল।
এই ঘটনায় স্থানীয় জুম্মদের দাবি, এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের প্রধান সামাজিক ও জাতীয় উৎসবকে ইচ্ছাকৃতভাবে বানচাল করার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা।
+ There are no comments
Add yours