হিল ভয়েস, ১ এপ্রিল ২০২৬, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার অন্তর্গত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা জুম্মদের অন্তত ১২টি দোকান খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ (১ এপ্রিল ২০২৬), বিকাল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকাল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে একটি টীম আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থান করেন। এর কিছুক্ষণ পরপরই পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে আশেপাশে থাকা জুম্মদের দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় জুম্মরা জেলা প্রশাসকের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনাদের দোকানগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে। দোকানের কাগজপত্র ঠিক নেই। আপনাদের কোনকিছুই ঠিক নেই। তাই আপনারা এখন থেকে আর দোকানগুলো খুলতে পারবেন না।” এই কথা বলে তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী জুম্ম দোকানিরা জানিয়েছেন, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে ১৫টির অধিক জুম্ম (ত্রিপুরা) পরিবার দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। তাদের সবারই অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পর্যটনের ভেতর দোকানের প্লট না পাওয়াতে পর্যটন সংলগ্ন আশেপাশের জায়গায় খুচরা দোকান দিয়ে তাদের অনেকে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার ভরণপোষণ করে থাকেন। বলা যায় ঐ দোকানই তাদের শেষ অবলম্বন।
কিন্তু আজকে সেই শেষ অবলম্বনে পরিকল্পিতভাবে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। কাগজপত্র ঠিক নেই, নিয়মনীতির বালাই নেই ইত্যাদি অজুহাত তুলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কর্তৃক জোরপূর্বক দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলো।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ভালো করে তদারকি করলে দেখা যাবে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ৯০% ভাগ দোকানেরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের এই ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ভুক্তভোগী জুম্মরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
+ There are no comments
Add yours