হিল ভয়েস, ১ এপ্রিল ২০২৬, বান্দরবান: আজ রোজ বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল ১:৩০ ঘটিকায় বান্দরবান জেলাধীন লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফরিদুল আলম কর্তৃক ১ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রেশমি ত্রিপুরাকে(৬) ক্লাস রুমে বেদড়ক মারধর করা হয় বলে জানা যায়। শিশুটি নিমন্দ্র মেম্বার পাড়ার নিবাসী রজনী ত্রিপুরার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিশু শিক্ষার্থী রেশমি ত্রিপুরাকে অভিযুক্ত ফরিদুল আলম ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন। কিন্তু সে লিখতে না পারায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে জোরে চড়-থাপ্পড় মারেন ফরিদুল। শিক্ষার্থী শিশুটির কান্নার শব্দ যাহাতে বের হতে না পারে তার জন্য হাত মুখ চেপে ধরেন এবং প্রমাণ মুছে দিতে সিসিটিভি ক্যামেরা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটি সেখানে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এক পর্যায়ে অজ্ঞান অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায় এবং এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দুপুর ১:৩০ ঘটিকার সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অফিসের ভিতর অবরুদ্ধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পরিবারের মা ও বাবা দুজনই জুমে কাজে গিয়েছিলেন। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পাওয়ায় ছুটে আসেন বাড়িতে তারা।
তারা আরো বলেন, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাদের মেয়েকে হাত মুখ চেপে ধরে নির্যাতন চালায়। এই সময় শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে মাথায় দীর্ঘক্ষণ পানি দেওয়ার পর জ্ঞান ফেরে এবং সে স্বাভাবিকভাবে কাউকে চিনতে পারছিল না। ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, এ ঘটনার পর তারা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আর বিদ্যালয়ে দেখতে চান না।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাকে অবিলম্বে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানান।
+ There are no comments
Add yours