‘রুশ নাগরিক গ্রেপ্তার’ সংক্রান্ত ভুয়া প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান, একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা রাজীবনগরের এনজিও ও ভিলেজ কাউন্সিল

হিল ভয়েস, ৩১ মার্চ ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিজোরামের মামিত জেলায় অবস্থিত রাজীবনগর-১ ও ২ গ্রামের যৌথ এনজিওসমূহ—যার মধ্যে রয়েছে ইয়ং চাকমা অ্যাসোসিয়েশন (YCA), চাকমা মহিলা সমিতি (CMS) এবং মিজোরাম চাকমা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (MCSU)—সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত রাজীবনগর গ্রাম থেকে এক রুশ নাগরিক গ্রেপ্তারের ভুয়া প্রতিবেদনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক প্রেস বিবৃতিতে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়, যেখানে স্বাক্ষর করেন রাজীব নগর-১ ভিলেজ কাউন্সিলের সম্পাদক কৃপা চার্য চাকমা, রাজীব নগর-২ ভিলেজ কাউন্সিলের সভাপতি দিপানু কর চাকমা, YCA-এর রাজীবনগর জোনের সাধারণ সম্পাদক মনু মোহন চাকমা, MCSU-এর রাজীবনগর জোনের সভাপতি মনান চাকমা এবং CMS-এর রাজীবনগর জোনের সভাপতি কেনদোরি বালা চাকমা।

উক্ত এনজিওগুলো জানায়, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের পিসিজেএসএস কর্তৃক পাঠানো এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চাকমা অধ্যুষিত গ্রাম রাজীবনগর থেকে ওই রুশ নাগরিক গ্রেপ্তারের খবর এবং এর সঙ্গে পিসিজেএসএস-এর সংশ্লিষ্টতার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও মনগড়া।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই সংবাদ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজীবনগরের জোনাল ইয়ং চাকমা অ্যাসোসিয়েশন হলে একটি জরুরি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, মামিত জেলার রাজীবনগরে এক রুশ নাগরিককে আটক করা হয়েছে এবং মিজোরামের চাকমা অধ্যুষিত এলাকায় বিদেশি কার্যকলাপের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে জানা যায়, রাজীবনগর থেকে রুশ নাগরিক গ্রেপ্তারের খবর সম্পূর্ণ ভুয়া, বিভ্রান্তিকর এবং যাচাইবিহীন (ফেক নিউজ)।

এতে YCA, CMS, MCSU এবং স্থানীয় ভিলেজ কাউন্সিলসমূহ সংবাদপত্র ও সামাজিক মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা ও মনগড়া খবর প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এছাড়া, রাজীবনগরের যৌথ এনজিও ও ভিলেজ কাউন্সিল তথাকথিত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এনজিও ‘সেন্টার ফর নর্থইস্ট ইন্ডিয়া সিকিউরিটি স্টাডিজ (CNEISS)’ কর্তৃক উত্থাপিত দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে রুশ নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এ ধরনের যাচাইবিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে না, বরং রাজীবনগর গ্রামের সুনাম, সম্প্রীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

উক্ত এনজিও ও ভিলেজ কাউন্সিল সকল ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে সতর্ক করে দিয়েছে যাতে তারা কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে।

তারা সত্য, দায়িত্বশীলতা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। যৌথ এনজিও ও ভিলেজ কাউন্সিলের বিবৃতিতে জানানো হয়- কেউ যদি ভুয়া তথ্য প্রচারে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটসহ প্রচলিত আইনের আওতায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিল ভয়েসের এক অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ভুয়া ও মনগড়া প্রচারণাটি ২৮ মার্চ ‘Suhas Chakma Connect’ নামের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল।

More From Author